পলান সরকারের দাফন সম্পন্ন

আপডেট: মার্চ ৩, ২০১৯, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


পলান সরকারের মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের-সোনার দেশ

একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকারের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিববার সকাল ১০টায় ১৮ মিনিটে স্থানীয় বাউসা হারুন-অর-রশিদ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ জানাজা নামাজ শেষ হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। জানাজা নামাজের আগে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাঘা থানাসহ স্থানীয় আ’লীগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান (ইন্নালিল্লাহে…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।
পলান সরকারের জানাজায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির বাবা সমাজ সেবক শামসুদ্দিন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লা (পিপিএম), বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিউর রহমান শফি, বাউসা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, আড়ানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের বলেন, পলান সরকার এ এলাকার গর্ব ও বাউসা হারুন-অর-রশিদ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিদ্যালয়টিকে সরকারি করার প্রতিশ্রুতি দেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাবা সমাজ সেবক শামসুদ্দিন পলান সরকার স্মৃতি পাঠাগার স্থাপনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পলান সরকারের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউশা পূর্বপাড়া গ্রাামে। নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। বই পড়ার এমন আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তাকে ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটক তৈরি হয়েছে। পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বইপাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথমদিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় ১ থেকে ১০ ক্রমিক নম্বরদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। তবে এর কিছুদিন পর থেকে সবাইকেই বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বই বিলি করেছেন পলান সরকার। তার ৬ ছেলে তিন মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে বড় ছেলে মোজাফফর হোসেন বাউসা মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, দ্বিতীয় ছেলে আবিবুর রহমান বাউসা মহাবিদ্যালয়ের কর্মচারী, তৃতীয় ছেলে আবদুল হানিফ খোর্দ্দ বাউসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, চতুর্থ ছেলে আবদুল হাকিম ভূষিমাল ব্যাবসায়ী, ৫ম ছেলে হায়দার আলী খাগড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, ৬ষ্ঠ ছেলে আবদুর রশিদ রবি মোবাইল ফোন কোম্পানির প্রকৌশলী। বড় মেয়ে রাবেয়া খাতুন, দ্বিতীয় মেয়ে রাজিয়া খাতুন, তৃতীয় মেয়ে রোকিয়া খাতুনের বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু রাবেয়া ও রাজিয়ার স্বামী ইতোমধ্যে মারা গেছে। তারা ছেলে সন্তার নিয়ে বসবাস করছে। তবে ছোট মেয়ে রোকিয়া খাতুন এমএ পাশ করে স্বামীর সংসার করছে। মেয়ের নিজ এলাকায় বিয়ে দেয়া হয়।
পলান সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।