পাকশীতে স্তুপিকৃত দূষণকারী সার || স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরসনে অপসারণ এখনই

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

কেহ জানে না পরিবেশ দূষণকারী সারের স্তুপ কবে সরবে। তবে সবাই স্বীকার করছেন, ওই সারের স্তুপ থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কেমিকেলস আশপাশের বসবাসকারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। মঙ্গলবার দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাবনার ঈশ্বরদীস্থ পাক্শী নর্থবেঙ্গল পেপার মিলস্ হাইস্কুল ও পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মত ইউরিয়া সারের ঝাঁঝাঁলো তীব্র গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পাকশী পেপার মিল সংলগ্ন এলাকার বসবাসরত কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির পানিতে গলে যাওয়া ইউরিয়া সার মিশ্রিত পানি ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে আশেপাশের ১০ থেকে ১৫ বিঘা ফসলি জমির ফসল ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, এসব জমিতে গত এক বছর ধরে কোনো ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এলাকার ছোট-বড় শতাধিক গাছও মারা গেছে। সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য গাছপালা মরে শুকিয়ে গেছে। শুকনো ডালপালা নিয়ে বাতাসে পড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে অর্ধশতাধিক মৃত গাছ।
পরিবেশের ওপরে যার এরকম মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তা হলে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কেন?Ñ এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর। দূষিত পরিবেশের মধ্যেই সেখানে চলছে একটি স্কুল ও একটি কলেজ। শিক্ষার্থী শিক্ষালয়ে যেতে কিংবা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা নিতে উভয় ক্ষেত্রেই রাসায়নিক বিক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। নাকে কাপড় চেপে কতদিন আর শিক্ষা নেয়া যায়! স্কুল কলেজের প্রধানরাও সে কথা বুঝছেÑ বিষয়টি পেপার মিল কর্তৃপক্ষ ও বিসিআইসির কর্মকর্তাকে জানানো হলেও প্রায় দেড়বছর ধরে এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। কিঝুতেই কিছু হয়নি। অথচ এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত নিতে হয়েছিল।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বিসিআইসির ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস্) সমস্যা স্বীকার করছেন কিন্তু কবে নাগাদ এসব সার এখান থেকে সরানো হবে সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না। চিকিৎসকের মতে সারের ঝাঁঝাঁলো গন্ধের সাথে এক ধরনের কেমিকেল বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। এতে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এই কেমিকেল মিশ্রিত বাতাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে মানব দেহে প্রবেশ করলে শরীরে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলমান থাকলে ক্যান্সারসহ মারাত্মক ও জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।
যেখানে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মারাত্মকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে সেখানে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা মোটেও কাম্য নয়। এটি জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে তোয়াক্কা না করারই সামিল। বিষয়টি এ ভাবে চলতে পারে না। সশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ দায় এড়াতে পারে না। জনগণের প্রতিনিধি যারা আছেন, এ ব্যাপারে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে খোলা আকাশের নিচ থেকে দ্রুত সার অপসারণের জন্য উদ্যোগ নিতে পারেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ