পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দ্রুত এগোচ্ছে বাংলাদেশ ড. ফরাসউদ্দিন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অনেক বড় অর্জন। অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এর কারণ, পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়া এদেশের বেশিরভাগ মানুষ দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল।
গত বৃহস্পতিবার সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মতামত দেন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই অর্থনীতিবিদ। পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া এবং দেশের অর্থনীতির কিছু বিষয়ে বিশেষত সঞ্চয়পত্রের সুদহার নিয়ে কথা বলেন তিনি। ড. ফরাসউদ্দিন মনে করেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হলে সমাজের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সম্প্রতি প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৪৭০ ডলার। বাংলাদেশে তা ১ হাজার ৫৩৮ ডলার।
পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৬৮ ডলার বেশি। ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। এ অর্জন বাংলাদেশের জন্য অনেক বড়। এতে করে সবাই আরও বেশি উৎসাহিত বোধ করবেন।’
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ উল্লেখ করে ড. ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ। সেদেশে বিদ্যুতের তীব্র অভাব আছে। গ্যাস থাকলেও দাম নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। পাকিস্তানে বৈষম্যও ব্যাপক। বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত মধ্যবিত্তের দেশ। অবকাঠামো উন্নয়ন যত দূর সম্ভব করা হয়েছে। কৃষকরা প্রচুর পরিশ্রম করছেন। দেশ স্বাধীনের পর জিডিপিতে শিল্পের অবদান ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। এখন তা বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিল্পের প্রসার ঘটেছে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যত শিল্প বাড়বে তত মানুষের চাকরি হবে। সমৃদ্ধির একটা চক্র তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। ফলে উচ্চহারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৭০ ডলার। আর সরকারি হিসাবে এখন ১ হাজার ৬০২ ডলার। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক দ্রুত এগিয়েছে বাংলাদেশ।