পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সত্যোচ্চারণ || জঙ্গি দমনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকবে তো?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তানে জঙ্গিবাদী তৎপরতা প্রকাশ্যে থাকলেও দেশটি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছিল। দীর্ঘদিনের দগ্ধ ঘায়ে এখণ ভীষণ পচন ধরেছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখন পাকিস্তান জঙ্গিদের সরব উপস্থিতি আর আড়াল করতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই দেশটি এখন স্বীকার করে নিচ্ছে যে, দেশটিতে জঙ্গিদের ঘাটি আছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, পাকিস্তানের মাটিতেই ফুলেফেঁপে উঠছে লস্কর ও জৈশের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি, এই প্রথম স্বীকার করে নিল ইসলামাবাদ। বুধবার, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খোয়াজা মহম্মদ আসিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাটিতে রমরমিয়ে চলছে লস্কর, জৈশ ও হাক্কানি নেটওয়ার্ক-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রশিক্ষণ শিবির। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর লাগাম টানার কথাও বলেন সন্ত্রাসবাদের পৃষ্টপোষকতায় অভিযুক্ত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ।
পাক সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’কে আসিফ জানান, “পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর ও জৈশের মতো জঙ্গিসংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলতে হবে। এবার নিজেদের ঘর গুছিয়ে নেওয়ার সময় হয়েছে।”
পাকিস্তানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সময়ের কথা সময়ের অনেক পরে বলার মত সদিচ্ছা দেখালো। এই বলাটা যদি সত্যিকার অর্থেই সে দেশে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় যায় তা হলে তা পাকিস্তানের জন্য কল্যাণই বয়ে আনবে। তবে যত সহজে জঙ্গি দমনের কথা বলা যাচ্ছে বিষয়টি তেমন নয়Ñ বেশ কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ। কেননা পাকিস্তানের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জঙ্গিরা প্রবেশ করে আছে। সেখান থেকে তাদের নিষ্ক্রিয় করা কিংবা তাদের নির্মূল করা শক্ত কাজই বটে। যখন কি না দেশটির সেনাবাহিনি ও গোয়েন্দা সংস্থা জঙ্গিবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যেই পাকিস্তান নামক দেশটি ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসী’ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের জঙ্গিরা শুধু ওই দেশটিকেই যে অকার্যকর রাষ্ট্রের পথে নিয়ে গেছে তা-ই নয়- প্রতিবেশী দেশগুলোতেও জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে চলেছে। বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানের জঙ্গিরা সক্রিয় আছে। এখন এমন এক সময় এসেছে যে, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরেই জঙ্গি-ধকল সামলাতে পারছে না। তারা শিক্ষা-দীক্ষায়, তথ্য-প্রযুক্তিতে এবং সামাজিক সূচকে বিস্তর পিছিয়ে পড়েছে। সে দেশে নারী শিশু মোটেও নিরাপদ নয়। মানুষ হত্যার বিষয়টি নিত্যদিনের ঘটনা। জঙ্গি তৎপরতার কারণেই সেখানে জাতীয় টিকা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।  সারা বিশ্বই এখন জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানকে চিহ্নিত করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক একেবারে সীমিত হয়ে পড়েছে অর্থাৎ পাকিস্তান ক্রমশই বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। এর ফলে দেশটির অর্থনৈতিক মেরুদ- ভেঙ্গে পড়েছে। দারিদ্রের বিরুদ্ধে দেশটি উঠে দাঁড়াতে পারছে না। পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাংক ‘ হাবিব ব্যাংক লি. এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার কার্যক্রম ওই দেশটি বন্ধু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে ব্যাংকটিকে অনেক সতর্ক করার পরেও তারা জঙ্গি তৎপরতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি। সব দিক থেকেই পাকিস্তানের পরিস্থিতি ভয়ানক পর্যায়ে দিকেই যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যোচ্চারণ ও প্রতিজ্ঞ দেশটির জন্য শুভ লক্ষণই বটে। পাকিস্তানকে জঙ্গিমুক্ত করা কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে তা অসম্ভবও নয়। আমাদেরও প্রত্যাশা পাকিস্তান সেই পথ ধরেই চলবে যে পথে পাকিস্তানের জনগণের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ