পাকিস্তানে মাজার রক্ষকের হাতে খুন ২০ জন

আপডেট: April 3, 2017, 12:25 am

সোনার দেশ ডেস্ক



পাকিস্তানের প্রত্যন্ত গ্রামে মাজার রক্ষক ও তাঁর সহযোগীদের হাতে খুন ২০ ধর্মপ্রাণ। নিহতদের মধ্যে ৩ নারী রয়েছেন। অভিযুক্ত রক্ষক আব্দুল ওয়াহিদ ও তার ৪ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপরাধ কবুল করেছে ওয়াহিদ। পাকিস্তানের জিও নিউজ সূত্রে খবর, ২ নারীসহ ৩ জখমকে উদ্ধার করা গিয়েছে। প্রথমে সেনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, পরে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁদের। সারগোধার ডেপুটি কমিশনার লিয়াকৎ আলি চাট্টা জানিয়েছেন, ‘রবিবার ভোরে গুরুতর জখম অবস্থায় থানায় হাজির হন এক নারী। কোনওরকমে মাজার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। বলেন, সহযোগীদের সঙ্গে মিলে প্রথমে আলি আহমেদ গুজ্জরেরর মাজারে আসা সকলকে ওষুধ খাইয়ে আচ্ছন্ন করে দেয় ওয়াহিদ। তারপর রামদার নির্দয়ভাবে রামদার কোপ ও লাঠি মেরে করে খুন করে। নারীর অভিযোগ পেয়েই মাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশ। ওয়াহিদ ও তার দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ’ মৃতদের মধ্যে ১১ জন সারগোধা, ২ জন ইসলামাবাদ, ২ জন লায়াহ, ১ জন মিয়ানওয়ালি এবং ১ জন পীর মহলের বাসিন্দা। এক নারীর দেহ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াহিদ পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের কর্মী। নির্দয়ভাবে ২০ জনকে খুন করলেও, সে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে জানিয়েছে লিয়াকৎ আলি চাট্টা। তবে তাঁর দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি,  প্রতি মাসে দু’বার ওই মাজারে আসত ওয়াহিদ। ফোন করে ভক্তদের ডেকে পাঠাত। এক এক করে সকলকে নিজের  ঘরে ডেকে পাঠাত। কিছু ওষুধ খাইয়ে আচ্ছন্ন করে দিত সকলকে। এরপর জামা-কাপড় খুলিয়ে বেদম প্রহার করত। মাঝেমধ্যেই মাজারের মধ্যে থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যেত। নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে এলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভক্তদের পাপস্খলনও করত সে। পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্তের জন্য পুলিশের একটি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করেছেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। লাহোর থেকে কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জাইম কাদরি এবং পাঞ্জাব ওয়াকফকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।- আজকাল