পাখির জন্য ভালবাসা

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


চড়ুই পাখিকে বাঁচাতে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট -সোনার দেশ

একটি চড়ুই পাখি ঝুলছিলো ঘুড়ির সুতায়। আর সুতাটি আটকে ছিলো বিদ্যুতের তারে। পাখিটি সুতা থেকে মুক্তি পেতে উড়ে যাবার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলো। অথচ বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলো পাখিটি। পাশেই তার সঙ্গী মাঝে মাঝেই লেজ নাড়িয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চেষ্টা করছিলো সঙ্গীকে বাঁচাতে। কিন্তু অসহায় পাখিটির সঙ্গীকে বাঁচাতে কিছুই করার ছিলো না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নগরীর আলুপট্টিতে অবস্থিত দৈনিক সমকাল অফিসের বিপরীতে বিদ্যুতের তারের সঙ্গে বেঁধে থাকা সুতোয় আটকে যায় পাখিটি। ঘটনাটি দৈনিক সমকালের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সৌরভ হাবিব জানালা দিয়ে দেখে কিছুক্ষণ একাই চেষ্টা করেন পাখিটিকে মুক্ত করতে। কিন্তু প্রায় তিরিশ ফুট উচ্চতায় আটকে থাকা পাখিটাকে মুক্ত করার কোনো পথ না পেয়ে হতাশ হন তিনি। এরপর ফোনে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসকে। খবর পাওয়ার দশ মিনিটের মধ্যেই দুপুর ১২ টার দিকে দুটি গাড়ি নিয়ে হাজির হয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দুটি ইউনিটে দশজন সদস্য মই দিয়ে উঠে মুহূর্তেই মুক্ত করেন পাখিটিকে। পাখিটি তখন কিচিরমিচির শব্দ করে উড়ে যায় আকাশে। আর মাটিতে থাকা উৎসুক শত শত মানুষ হাততালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন আফিসার মেহেরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক সৌরভ হাবিব ফোন করে খবর দেবার পরই আমরা দুইটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তারপর আমরা পাখিটি উদ্ধার করি।
তিনি জানান, যেকোনো দুর্ঘটনায় সাড়া দেয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রত্যেকটা প্রাণেরই সমান মূল্য দিই। যেকোনো দুর্ঘটনায় আমরা ছুটে যাই। এটা আমাদের কর্তব্য। তাই যে কোনো ছোট বড় দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে আমাদের খবর দিলে আমরা ছুটে যাবো।
প্রাণ বৈচিত্র সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারি শহিদুল ইসলাম জানান, এই কাজটি অনেক মানবিক ও সচেতনামূলক হয়েছে। এভাবেই সকল প্রাণের বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’
সমকালের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সৌরভ হাবিব বলেন, ‘পাখি বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিস গাড়ি নিয়ে ছুটে আসবে তা ধারণা ছিলো না। আনেকটা হতাশা নিয়েই ফোন করি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি হুঁইসেল বাজাতে বাজাতে ছুটে আসে। এসময় অনেক মানুষ জুটে যায়। তারা ভেবেছিলেন কোথাও আগুন লেগেছে। ভুল ভাঙলো যখন পাখিটি দেখিয়ে দেই তখন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কোনো অবহেলা করেনি। বরং দ্রুত তারা মই ভিড়িয়ে পাখিটিকে মুক্ত করেছে।
সৌরভ হাবিব আরো বলেন, পাখিটি মুুক্ত হবার সাথে সাথে সবাই হাততালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলতে থাকেন- ‘একটি প্রাণ বাঁচলো, মহান একটি কাজ হলো।’ আবার কেউ কেউ তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলেছেন, ‘একটি পাখির জন্য এত বাড়াবাড়ি ঠিক হয়নি।’