পানি শূণ্য চলনবিল

আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


বর্ষা শুরু হলেও এখনও পানি শূন্য রয়েছে চলনবিল-সোনার দেশ

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষা ঋতুর শুরু হয় আষঢ়ে। বৃষ্টি আর মাঠ ভরা পানি এটাই ছিল চিরাচরিত রূপ। কালের আবর্তে সেই রূপের বদল হয়েছে। তাইতো আষাঢ়ের শুরু হলেও বাংলাদেশের বৃহত্তর চলনবিল একেবারেই পানি শূন্য। নেই কোন বৃষ্টি।
গতকাল শনিবার ১ লা আষাঢ়ে চলনবিল অধ্যুতিষ গুরুদাসপুরের বিলশা, বড়াইগ্রামের সাতৈল বিল, চিনিডাঙ্গার বিল, মানিকপুর বিল ঘুরে কোথাও পানির দেখা পাওয়া যায় নি। বোরো ধান কাটার পর ফাঁকা মাঠ। বিচ্ছিন্ন কিছু জমিতে পাট এবং আউস আবাদ করা হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে সেসব ফসল বাড়ছে না। এছাড়া বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। কোথাও নেই স্বস্তি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গোটা চলনবিল এলাকার একই চিত্র।
গুরুদাসপুরের দরিবামনগাড়া গ্রামের প্রবীন কৃষক সাদেক আলী বলেন, বদলে গেছে সব কিছুই। আগে বর্ষা কালের শুরুতেই চলনবিল জুড়ে নতুন পানির আগমন ঘটতো। আকাশ থেকেও পড়তো বৃষ্টির পানি। সে সময় বেশির ভাগ কৃষক মাঠে গিয়ে খেয়া জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে নতুন পানিতে পুঠি, দারকিনিসহ নানা প্রজাতির মাছ ধরতো। এখন পানিও নাই, মাছও নাই। সবই বদলে গেছে।
বড়াইগ্রামের মানিকপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের সজল বলেন, বর্ষা কালে বর্ষা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ষড়ঋতুর দেশে কোন ঋতু কখন আসে বুঝা দায়। ফলে ফসলের ধারাবাহিকতাও থাকছে তেমন ভাবে। আবার ঠিক মতো বর্ষা না হওয়ায় কৃষি জমিও তার উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। কারণ বর্ষার ফলে পানি প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পলি জমে উর্বরতা বৃদ্ধি পেত।
বড়াইগ্রামের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদ বলেন, বর্ষা কালে বৃষ্টি না থাকায় কৃষক আমনের আবাদ থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। আবার পাট এবং আউসের আবাদে প্রভাব পড়ছে। তবে মাত্র বর্ষাকাল শুরু হলো বর্ষায় অনেক পানি না হলেও বৃষ্টি হয়তো হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ