পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ মার্কিন টিনএজারদের কাছে আবেদন হারাচ্ছে ফেসবুক

আপডেট: জুন ৭, ২০১৮, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রের টিনএজারদের কাছে ক্রমেই আবেদন হারাচ্ছে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এর ব্যবহারকারীরা এখন অন্য প্লাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন কিশোর-কিশোরীরা ফেসবুকের চেয়ে এখন ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামে বেশি সময় ব্যয় করে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও সিএনএন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭৫০ জন টিনএজারের ওপর জরিপ চালিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ মার্কিন টিনএজার এখন ফেসবুক ব্যবহার করে, যা ২০১৫ সালের চেয়ে ২০ শতাংশ কম। দেশটির টিনএজারদের মধ্যে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম ইউটিউব। ৮৫ শতাংশ মার্কিন টিনএজার ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মটি ব্যবহার করে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় রয়েছে ৭২ শতাংশ টিনএজার। স্ন্যাপচ্যাটের একই শ্রেণীর ব্যবহারকারী ৬৯ শতাংশ। ফলে তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্ন্যাপচ্যাট। গ্রাহক কমে তালিকার চারে নেমেছে ফেসবুক। দেশটির ৩২ শতাংশ কিশোর মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার ব্যবহার করে।
টিনএজাররা ফেসবুকের চেয়ে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ বেশি ব্যবহার করছে। তবে এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা কম নয়। ফেসবুকের গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও টিনএজারদের সংখ্যা কমছে। অথচ মার্ক জাকারবার্গ মূলত এ শ্রেণীর কথা মাথায় রেখেই সাইটটি চালু করেছিলেন। বর্তমানে ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারী ২০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
জরিপে অংশ নেয়া ৯৫ শতাংশ জানিয়েছে, স্মার্টফোনের মাধ্যমেই তারা সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো ব্যবহার করে। বাকি ৫ শতাংশ অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে এসব সাইট ব্যবহার করে। ৪৫ শতাংশ জানিয়েছে, তারা সারাক্ষণই ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
জরিপের তথ্য বলছে, উচ্চ আয়ের পরিবারের চেয়ে নিম্ন আয়ের পরিবারের টিনএজারদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।
গবেষণা সংস্থা জিবিএইচ ইনসাইটসের প্রযুক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল আইভস বলেন, ফেসুবক টিনএজারদের আকর্ষণ করতে না পারলেও প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণাধীন ইনস্টাগ্রাম এ শ্রেণীর গ্রাহক টানতে সমর্থ হয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমার্কেটারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ বছরের কম বয়সী ফেসবুক ব্যবহারকারী ২০ লাখ কমবে। তবে দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্ক ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়ে যাবে। ফলে মোট ব্যবহারকারীর হিসাবে ভারসাম্য থাকবে।
২০১২ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম নিয়ে জরিপ শুরু করে। তখন থেকেই মার্কিনিদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সাইট হিসেবে ফেসবুকের নাম উঠে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ফেসবুক ব্যবহারকারীরা অন্য প্লাটফর্ম ব্যবহারে ঝুঁকছে।
একাধিক গবেষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন টিনএজাররা এখন ফেসবুক ছেড়ে স্ন্যাপ ব্যবহারে ঝুঁকছে। আরো গ্রাহক টানতে স্ন্যাপচ্যাট তার নকশায় পরিবর্তন এনেছে। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রতিষ্ঠানটি আবারো নতুন করে নকশায় পরিবর্তন আনে।
এদিকে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর ফেসবুকের বিরুদ্ধে আবারো গ্রাহক তথ্য শেয়ারের অভিযোগ উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ফেসবুকের সঙ্গে অন্তত ৬০টি ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্যবিনিময় চুক্তি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেÍ অ্যাপল, অ্যামাজন, স্যামসাং ও মাইক্রোসফট। ফেসবুক এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবহারকারী এবং তাদের বন্ধুদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেসবুক তথ্য শেয়ারের চুক্তিতে আবদ্ধ আছে। ফলে সম্মতি ছাড়াই ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানিগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যের সঙ্গে তাদের বন্ধুদের তথ্যও পাচ্ছে। তবে ফেসবুক এক বিবৃতিতে ব্যবহারকারীর বন্ধুদের তথ্য শেয়ারের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
নিউইয়র্ক টাইস জানায়, কিছু ডিভাইস নির্মাতা ফেসবুক ব্যবহারকারীর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস, ধর্ম, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ইভেন্টের মতো তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়েছে। সংবাদ মাধ্যমটির মতে, অধিকাংশ চুক্তি এখনো বলবৎ আছে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেসবুকের বিরুদ্ধে ইউএস ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অঙ্গীকার না মানার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য এ বিষয়ে ফেসবুকের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিভাইস নির্মাতাদের সঙ্গে চুক্তির ফলে তাদের প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতি বা এফটিসির অঙ্গীকার লঙ্ঘিত হয়নি।
ফেসবুকের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে কয়েক কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এ ঘটনার জেরে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গকে মার্কিন সিনেট ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের শুনানিতে হাজির হতে হয়েছে। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা