পুঠিয়ায় রোপা-আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতি কৃষকের মাথায় হাত

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুঠিয়ায় একটি খেতে দুর্যোগপূর্ণ আবওয়ায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানের গাছ সোনার দেশ

পুঠিয়ায় গত কয়েকদিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উঠতি রোপা-আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে বেশিরভাগ পাকা-আধাপাকা ধান এখন পানির নিচে পড়ে আছে। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে শেষ মুহূর্তের ধানের ফলন প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে কি পরিমাণ ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি পুঠিয়া কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলা ৬ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোট ৫ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষ করা হয়েছে। আর রোগ-বালাইমুক্ত অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৪৬০ মেট্রিক টন ধান। তবে দুর্যোপূর্ণ আবহাওয়ায় সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা। পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, এই মুহূর্তে অধিকাংশ জমির ধানে পাকা রং ধরেছে। আর ধান পেঁকে গেলে গাছের গোড়া স্বাভাবিকভাবে নরম ও ধানের শীষের কারণে মাথা ভারি হয়ে যায়। তার উপর বৃষ্টি ও সাথে বাতাস হওয়ায় কিছু জমিতে ধান পড়ে গেছে। তবে এই মুহূর্তে কৃষকদের আমরা জমির পানি বের করে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আর নিচু জমিতে যে সকল ধানে পানির নিচে আছে তার ফলন কম হতে পারে।
জিউপাড়া এলাকার কৃষক মোজাহার আলী বলেন, এ বছর দাম কম থাকায় মাত্র চার বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। ধান ক্ষেত এখন পেকে গেছে কিন্তু শেষ মুহূর্তে গত তিন দিনের বৃষ্টিতে দু’বিঘা জমির ধান পড়ে পানির নিচে চলে গেছে। যার কারণে এবার ধানের ফলন প্রায় অর্ধেকেরও কম হবে।
পুঠিয়া কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার কৃষক মেরাজুল ইসলাম জানান, আমার দুই জমির মাঝে এক জমির অর্ধেক ধান এখন পানিতে। আর কিছুদিন পরেই ধানগুলো উঠবে। কিন্তু এর মাঝে এই আবহাওয়ায় আমার সর্বনাশ হয়ে গেলো।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মঞ্জুর মাওলা বলেন, গত দু’দিন ছুটি থাকার কারণে এই খারাপ আবহাওয়ায় উঠতি ধানের কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য এই মুহূর্তে জানাতে পারবো না। তবে আজকে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাঠে নেমেছিলো। গোটা উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টরের বেশি ধান পড়ে গেছে। এতে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ