পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রোগীদের চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুন ৮, ২০১৮, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার রয়েছেন ছয় জন, থাকার কথা ২৮ জন। জনসংখ্যা অনুযায়ী এই উপজেলায় ৩৪ হাজার ৫৮১ জন মানুষের বিপরীতে একজন ডাক্তার রয়েছে। এতে করে চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসাসেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে সরকারি নিয়ম অনুসারে ২৮ জন চিকিৎসক এবং ইউনিয়ান উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে একজন করে চিকিৎসক থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কাগজ কলমে রয়েছে মাত্র তিন জন মেডিকেল অফিসার এবং ৩ জন কনসালটেন্ট। এরমধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই দিন করে ডিউটি পালন করেন। পুঠিয়াতে দুই দিন ডিউটি করেন। এরমধ্যে ছয় জন রয়েছেন প্রেষণে। এর মধ্যে ১৪টি পদই শূন্য রয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি মতে গোটা উপজেলার ২ লাখ ৭ হাজার ৪৯০ জন রোগীর সেবা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ রোগীকে সেবা দিচ্ছেন কয়েকজন ডাক্তার।
মানুষের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিকিৎসা। অথচ চিকিৎসাক্ষেত্রে শৃঙ্খলার অভাব প্রকট। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের মন পড়ে থাকে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে। মফস্বলে নিয়োজিত ডাক্তারদের পাওয়া কঠিন। সরকারি ওষুধপত্রও ঠিকমতো পাওয়া যায় না, সরঞ্জামাদি প্রায়ই অচল থাকে। বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো রীতিমতো পেষণযন্ত্র। ফলে চিকিৎসাব্যবস্থায় মানুষের আস্থা বিলীয়মান। চিকিৎসাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সরকারকে তৎপর হতে হবে সবার আগে; কঠোর পরিবীক্ষণ দরকার। আর ডাক্তারদের নীতি ও মূল্যবোধসম্পন্ন হতে হবে।
ডাক্তারি একটি মহান পেশা। যে পেশা মানবসেবায় কাজ করে যাচ্ছে। রোগমুক্তির জন্য অর্জিত মেধা দিয়ে চিকিৎসা করে মানুষকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন মহান পেশায় নিয়োজিত এই ডাক্তাররা। কিন্তু ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত গুটিকয়েক ডাক্তারের কারণে ডাক্তারি পেশাটা মানবজাতির কাছে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। অর্থের লোভে মানবসেবাকারীরা বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন। মানবতাকে কোরবানি দিয়ে অর্থ রোজগারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ভুয়া ডাক্তার সেজে ডাক্তারি করার মতো অন্যায় কাজও চলছে অহরহ। ডাক্তারের অসাবধানতার কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে অনেক। শৃঙ্খলাহীন হয়ে পড়েছে ডাক্তারি পেশা। তাঁদের শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতেই হবে। মানবতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে মহান পেশায় নিয়োজিত এই ডাক্তারদের।
চিকিৎসাক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীকে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের জন্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সারা দিন পার করেও ডাক্তারের দেখা মেলে না। অথচ চিকিৎসার মতো মহৎ পেশার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের সেবা করা। সরকারকে স্বাস্থ্য খাতের দিকে আরো মনোযোগ দিতে হবে। ডাক্তারদের মধ্যে সেবার মানসিকতা জাগিয়ে তুলতে হবে। কিছু অসাধু ডাক্তারের কারণে চিকিৎসা পেশার দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ হাসপাতালের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাই সরকারের উচিত, স্বাস্থ্য খাতে আরো নজর দেওয়া এবং সরকারের গৃহীত নির্দেশনা যেন ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেনে চলে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা। প্রশাসন কঠোর হলেই এই চিকিৎসার মতো মহৎ পেশায় প্রাণ ফিরে আসবে এবং রোগীরা পূর্ণ সেবা পাবে। চিকিৎসক সংকট আর থাকবে না। তখন সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে সবাই। শুধু সরকারকে এব্যাপারে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ