পুলিশের বিশেষ যতেœ ডিআইজি মিজানুর দৃষ্টান্ত খুবই খারাপ হলো!

আপডেট: July 4, 2019, 12:44 am

দেশের আদালত বলেছেন, ডিআইজি মিজানুর রহমান পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে- অথচ পুলিশ বিভাগ সেটি মানলেন না। সাময়িক বরখাস্ত মিজানুর রহমান নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি দুদক এর জনৈক পরিচালককে ঘুষ দিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে তার এই স্বীতারোক্তি ফলাও করে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। অথচ দুদকের মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আদালতে নেয়ার আগ পর্যন্ত শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শীতাতপ কক্ষে ছিলেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। ১ জুন বিকালে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর সন্ধ্যা ৬:৫৫ মিনিটে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ২ জুন সকাল ১০টায় আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা ওসির কক্ষেই ছিলেন পুলিশের সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই ডিআইজি। দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ খবরও প্রকাশিত হয়। আদালতে হাজিরা ও গ্রেফতারের পর ওই পুলিশ কর্মকর্তার যে সব বক্তব্য, আচরণ ও হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশিত হয়েছে- তাতে তার মধ্যে ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। নূন্যতম লজ্জাবোধও তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি। বরং আদালতে মোবাইল ফোনে কথা বলা, অন্য পুলিশ কর্তাদের অতিমাত্রায় তোয়াজ ও সহযোগিতা করার সংবাদ মাধ্যমের খবর আইনের ব্যবস্থাকেই তিনি অবজ্ঞা দেখিয়ে গেছেন।
অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ওই পুলিশ কমর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগই শেষ নয়Ñ এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ আছে। এসব কিছু সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এর আগে নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু, এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ১৯ জুন আদালত এক আদেশে মিজানুর রহমানের স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২৪ জুন তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার একজন অভিযুক্ত আসামীকে থানা পুলিশ যে ভাবে আদর- অ্যাপ্যায়নের ব্যবস্থা করলো তাতে এ দেশে আইনের শাসনের পথচলাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হলো। আইন যে সবার সবার জন্য সমান- এ আপ্তবাক্যটি যে সঠিক নয়- এ ক্ষেত্রে আরেকবার দেশের মানুষের সামনে আসলো। ব্যক্তির অবস্থান, তার পদমর্যাদা, তার প্রতিপত্তি এবং বিচারের প্রতিটি প্রক্রিয়ায় যে অর্থ ব্যয় হয় সেই সামর্থের ওপরই নির্ভর করে আইনের সুবিধা লাভ করা। অথচ ওই একই মামলায় যদি কোনো নি¤œ পদস্থ অফিসার হতেন সে ক্ষেত্রে পুলিশের ব্যবহার অন্যরকম হতো। নিশ্চিতভাবেই ওই অভিযুক্তকে সাধারণ খাবার খেয়ে জেল হাজতেই কাটাতে হতো। কিন্তু ডিআইজি বলে কথাÑ তার জন্য থানার ওসি তার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস কক্ষ রাতে থাকার জন্যই শুধু নয়Ñ ১৫ ঘণ্টার জন্য ছেড়ে দিয়ে তিনি এক সাধারণ কক্ষে অফিস করেছেন। ডিআইজির যাতে কোনো রকমের সমস্যা না হয় তার ব্যবস্থাও করা হয়।
এটি কোনো ভাল দৃষ্টান্ত হলো না। যা হলো তাতে পুলিশের ভাবমূর্তি আরো অধোমুখিন হলো। শুধু মিজানুর রহমানই নয়Ñ শাহবাগ থানা ও পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারাও পলিশ বিভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুললেন। আর দেশের মানুষের পুলিশের প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাসের ঘাটতি- সেটাও আরো পর্যবসিত করা হলো। এমনটি প্রত্যাশিত ছিল না। পুলিশ বিভাগ ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগি- সেই প্রত্যয়টিও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এর কী উত্তর আছে- তা হয়ত্ োপুলিশ বিভাগই দিতে পারবে। কিন্তু আমরা মনে করি যা হলো তা আইনের শাসনের জন্য ভাল কিছু হলো না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ