পেঁয়াজ সঙ্কট সৃষ্টিতে দায়ি কারা নেপথ্যের চাঁইদের শাস্তি হবে কি?

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

পেঁয়াজ জনপ্রিয় মশলা, আবার সবজিও। এর ভেষজগুণও বহুবিধ। সবমিলিয়ে পেঁয়াজ বেশ প্রয়োজনীয় একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এটা ছাড়া যেন চলেই না। পেঁয়াজ নিয়ে এখন দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সেপ্টেম্বরে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়েছে। বাজারে সামান্য ঘাটতির গন্ধ পেলেই ব্যবসায়ীরা তার যুৎসই ব্যবহার করে। সামান্য ঘাটতিকেই কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কাড়ি কাড়ি বাহুল্য অর্থ তুলে নেয়। এ অন্যায় নতুন কিছু নয়। মাঝে মধ্যেই এমনটি হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীদের কারসাজির কবলে পড়ে থাকে চাল, ডাল, চিনি, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। এখন চলছে পেঁয়াজের পালা। সংবাদ মাধ্যমে পেঁয়াজ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে।
বাংলাদেশে পেঁয়াজের একটা বড় সরবরাহ ভারত থেকে আসে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দেয় ভারত। এরপর মাসের শেষ দিকে এসে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে সময় নেয় নি। হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ব্যবসায়ীরা যে পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন, সেই পেঁয়াজই ২৯ সেপ্টেম্বরের পর ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়।
ভোক্তা সাধারণ- এমনকি খুচরা বিক্রেতারা পর্যন্ত বলছেন, সিন্ডিকেশন ছাড়া হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়া সম্ভব নয়। তারা বলেছেন, দেশি ও বিদেশি পেঁয়াজের বড় মজুত থাকার পরেও মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে না।
সংবাদ মাধ্যমে তথ্য মতে, হঠাৎ করে পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রথম কারসাজি করেছেন একশ্রেণির আমদানিকারকরা। ভারতে দাম বাড়ানোর হুজুগ তুলে বাড়তি দামের এলসি খোলার আগেই তারা আগে কেনা পেঁয়াজের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে। এরপর ভারতে পেঁয়াজ রফতানি যে তারিখে (২৯ সেপ্টেম্বর) বন্ধ হয়, সেদিন প্রথমে কেজিতে তিন টাকা কমালেও দুই দফায় কেজিতে ২৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ নতুন করে তখনও পেঁয়াজ আমদানি হয়নি।
দ্বিতীয় ধাপে পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতারা দাম বাড়ানোর পেছনে কারসাজি করেছেন। এদের কাছে এখনও দেশি ও বিদেশি পেঁয়াজের বড় মজুত রয়েছে। ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর অজুহাত তুলে তারা দেশি পেঁয়াজেরও দাম বাড়িয়েছে দফায় দফায়। ফলে আমদানি করা ও দেশি পেঁয়াজের দাম দুটোই বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কারণে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
কিন্তু কীভাবে ব্যবসায়ীরা বারবার একই ঘটনা ঘটিয়ে যায়Ñ অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয় না। ভ্রাম্যমান আদালত দ্বারা বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয় বটে কিন্তু এতে করে যতদিন পেরিয়ে যায়- ওই সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। নেপথ্যের চাঁইদের সাধারণত কিছুই হয় না। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। মাঝারি ও খুচরা বিক্রেতারা কখনো কখনো আইনের জালে ধরা পড়ে। তাদেরই জরিমানা হয়, পণ্য জব্দ হয়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেটের কারসাজি চলতেই থাকে।
সংবাদ মাধ্যমে পেঁয়াজের সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এবার অন্তত এই সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হোক। নতুবা একটির পর একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে অর্থ লুটপাটের ঘটনা বন্ধ হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ