পোলট্রি খামারিরা বিপাকে সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগ চাই

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৮, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

বড় পুঁজি ছোট পুঁজিকে গিলে খায়Ñ বিশ্ব বাজার ব্যবস্থায় এটাকে অন্যায় হিসেবে দেখা হয় না। বিশ্ব বাজার ব্যবস্থা প্রকট প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এই রেসে কেউ হেরে গেলে সে সর্বস্বান্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কম দামে উন্নত পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়াই এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। এতে যে টিকতে পারবে না তাকে সরে যেতেই হবে। ক্রেতারা সুলভ মূল্যে আকর্ষনীয় পণ্যটাই কিনতে চায়। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় ভীষণ নোংরামিও আছে, আছে কপটতা, প্রতারণা। প্রায়ই ক্ষেত্রে দেখা যায় ছোট পুঁজিকে দ্রুত গ্রাস করতে অন্যায়ের আশ্রয় নেয়া হয়। উৎপাদিত পণ্য সমমানের ও সম দামের হলেও বড় পুঁজি সাময়িক লোকসানের দায় নিয়ে পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়। এর ফলে ছোট পুঁজি তার উৎপাদন ব্যবস্থায় আর টিকে থাকতে পারে না। এক পর্যায়ে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ছোট পুঁজির উদ্যোক্তাকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হয়। এই সাফল্যে বড় পুঁজির উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম ইচ্ছেমত বাড়িয়ে দেয়।
রাজশাহীর ছোট পুঁজির পোলট্রি খামারিরা তেমনি অভিযোগ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বড় পুঁজির কূটকৌশলের শিকার হয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু খামার বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদনের চেয়ে বাজারমূল্য কম হওয়ায় খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েছে। ছোট খামারিরা অভিযোগ করছেন যে, বড় বড় ব্যবসায়ী ও ফিড ব্যবসায়ীরা যুক্ত হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক খামার তৈরি করেছে। তারা ডিম উৎপাদন করে সেগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।
খামারিদের মতে, একটি ডিম তৈরি করতে প্রায় ৫ টাকা ৫০ পায়সা খরচ হয় । কিন্তু বর্তমানে ডিমের পাইকারি মূল্য ৪ টাকা ৬০ পয়সা। খামারিদের ভাষায় দফায় দফায় ডিমের মূল্য কমে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিবস্তা ফিডের দাম ছিলো ১৬০০ টাকাÑ সেখানে গত সপ্তাহ থেকে মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫০ টাকা। ফিডের দাম যখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ছিলো তখনো ডিমের দাম বেশি ছিলো।
খামারিদের ওই অভিযোগ সত্য হলে তা ভয়ঙ্করই বটে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট করণীয় আছে। সরকার সারা দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উদ্যোক্তাদের নানান সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা হচ্ছে। এতে করে দেশের তরুণরা উৎসাহিত- অনুপ্রাণিত হচ্ছে। কিন্তু উদ্যোক্তাদের পুঁিজির নিরাপত্তা না থাকলে কোনো উদ্যোগই সফল করা যাবে না তা পোলট্রি খামারিদের দুর্দশার চিত্রই বলে দেয়। ব্যবসায় অবশ্যই প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু তা যেন কূটকৌশলের আশ্রয়ে না হয়Ñ তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য উৎসাহ ও প্রণোদনা প্রদানÑ একই সাথে ব্যবসায়ে প্রতিযোগিতার নামে মৎস্যান্যয় বহাল থাকলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। ছোট পুঁজিকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সেই মতে খামারিদের অভিযোগ যাচাই করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া বাঞ্ছনীয় হবে। ছোট পুঁজির উদ্যোক্তারা বাজারে স্থিরতা রক্ষা করে চলেছে। সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় তারা সর্বস্বান্ত হলে বড় পুঁজি অস্থিরতা সৃষ্টি করবেÑ যার কুফল ভোগ করবেন ক্রেতারা। তারা জিম্মি হয়ে পড়বে সিন্ডিকেটের কাছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টির প্রতি সুদৃষ্টি দিবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ