পোলিং এজেন্ট পাচ্ছে না বিএনপি

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৮, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে পোলিং এজেন্ট পাচ্ছেন না বিএনপি। এতে দলের মধ্যেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কর্মীদের মধ্যে নানা তৎপরতা চালানো সত্ত্বেও তারা পাচ্ছেন না পোলিং এজেন্ট। তাই শঙ্কায় রয়েছেন শেষ পর্যন্ত পোলিং এজেন্ট ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে হতে পারে বিএনপিকে। তবে বিএনপি বলছে, ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে কর্মীরা পোলিং এজেন্ট হতে ভয় পাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৩৮টি কেন্দ্রের এক হাজার ২৬টি বুথে। এইজন্য একজন প্রার্থীর প্রতিটি বুথের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট দরকার। কিন্তু বিএনপি বড় দল সত্ত্বেও তার প্রার্থীর জন্য পোলিং এজেন্ট পাচ্ছে না।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের মনোনীত প্রার্থীর জন্য পোলিং এজেন্ট পাওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। সেখানে কর্মীদের পোলিং এজেন্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পোলিং এজেন্ট হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া নি বিএনপি।
বিএনপির মহানগর কমিটির এক নেতা বলছেন, নির্বাচনী কেন্দ্রে থাকার জন্য শুরু থেকেই পোলিং এজেন্ট খোঁজার কাজ চলছে। কিন্তু নেতাকর্মীরা ভয়ভীতির কারণে পোলিং এজেন্ট হতে চাচ্ছেন না। তাছাড়া নেতাকর্মীদের মনোবলও ভেঙে গেছে। আর একজন দুইজন লোক না তো। প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পোলিং এজেন্ট লাগবে। এতগুলো পোলিং এজেন্ট পাওয়া নিশ্চয় কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়ও আওয়ামী লীগের লোকজন মহিলা দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ব্যানার- পোস্টার ছিঁড়ে নিয়েছে। এখন যদি বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভয়ভীতি দেখায় তাহলে নেতাকর্মীরা কীভাবে পোলিং এজেন্ট হবে?
বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল নির্বাচন কমিশন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বলেন, পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে। যেন তারা ভোটগ্রহণ শেষে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই নিরাপত্তাটুকু দিলেই বিএনপির পক্ষে পোলিং এজেন্ট পাওয়া কোনো বিষয় না।
বিএনপির নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জড়তা তো আছেই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের জড়তা কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় পোলিং এজেন্ট না পেলেও আমরা জয়লাভ করবো। আর নির্বাচনে জয়লাভ না করলেও আগামি জাতীয় সংসদে নির্বাচনে যাতে দৃঢ় মনোবল নিয়ে কর্মীরা মাঠে নামতে পারে সে বিষয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করতে কাজ করা হচ্ছে।
ভয়ভীতি দেখানোর কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা পোলিং এজেন্ট হতে চাচ্ছে নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এটা ডাঁহা মিথ্যা কথা। কারণ অভিযোগ করা ছাড়া বিএনপি এখন পর্যন্ত একটা ঘটনারও প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে, আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। সত্যিকার অর্থে বিএনপির এখন কর্মীই নাই। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে দলের ভেতরে এতো দ্বন্দ্ব যে বিএনপি বিপর্যস্ত। তার প্রমাণ এই পোলিং এজেন্ট না পাওয়া। পোলিং এজেন্ট সংকট বিএনপির আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কর্মী সংকটকেই চিহ্নিত করছে। আর আমরা কাকে বাদ কাকে পোলিং এজেন্ট রাখবো তাই নিয়ে চিন্তিত। এতো নেতাকর্মী পোলিং এজেন্ট হতে চায়।
রাজশাহী নির্বাচন অফিসের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, প্রতিটি বুথেই প্রতিটি মেয়র প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট দেয়ার কথা। তারা সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রার্থীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। ভোটের স্বচ্ছতা আনার জন্য এই পোলিং এজেন্টের প্রতিনিধি রাখা হয়। যাতে নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। ফলে ভোটে পোলিং এজেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের দিন সকাল সাতটার মধ্যেই প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে পোলিং এজেন্টের তালিকা জমা দিতে হবে একেকজন প্রার্থীর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ