প্রচারণা শেষ, চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ

আপডেট: মে ১৪, ২০১৮, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে রোববার মধ্যরাত থেকে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। মঙ্গলবার (১৫ মে) খুলনা সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা শেষে ভোটের হিসাব-নিকাশ কষছেন প্রার্থীরা।
প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে মহানগরীর পাড়া-মহল্লা, অলিগলি মুখরিত মাইকিংয়ে। বিভিন্ন জায়গা ছেয়ে গেছে পোস্টার আর লিফলেটে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ ও প্রচারণা। সেই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। তাদের প্রত্যাশা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য নগরপিতা নির্বাচিত হবেন।
প্রার্থী ও ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। গাজীপুর নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পর দেশের মানুষ এখন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দিকে তাকিয়ে আছে। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় রয়েছে সবাই। তবে খুলনায় চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সকাল ৯টায় দৌলতপুর পাবলা দফাদার পাড়া চানাচুর পট্টিতে শেষ দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। দিনভর তিনি বিভিন্ন এলাকায় শেষ প্রচারণা চালান। পাশাপাশি তিনি মোবাইল ফোনে প্রতিটি নাগরিকের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রচারণার শেষ দিনে ৩১নং ওয়ার্ডের নগরীর প্রবেশদ্বার খানজাহান আলী সেতু থেকে গণসংযোগ শুরু করে চানমারী, বান্দবিাজার, রূপসাস্ট্যান্ড রোডে প্রচারণা চালান।
সেই সঙ্গে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মঞ্জু বিভিন্ন বস্তিতে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন বলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কারী এসএম কামাল হোসেন অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রচার-প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। রোববার দুপুরের পর থেকে মাঠে নেমেছে বিজিবি।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার, সিল, কালিসহ নির্বাচনী মালামাল খুলনায় এসেছে। এসব মালামাল বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নির্বাচনে ১ হাজার ৮১০টি ব্যালট বাক্স প্রয়োজন হবে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারদের এসব মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। ১৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নামানো হয়েছে।
র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনে র‌্যাবের ৩২টি টিম দায়িত্ব পালন করবে।
খুলনা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, সাড়ে ৪ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ভোট কারচুপিতে নয় আওয়ামী লীগ জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি ভোট কারচুপির ইচ্ছা থাকতো তাহলে ২০১৩ সালের চারটি সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হতো না। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো।
বিএনপি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, আপনারা ভয় পাবেন না। হতাশ হবেন না। সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করুন। দলবদ্ধ হয়ে ভোট কেন্দ্রে যান। ধানের শীষে আপনার ভোট প্রয়োগ করুন। কোনো শক্তি নেই জনতার সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে পরাস্ত করতে পারে। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের গালগল্প জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এনে লুটেপুটে খাওয়াই আওয়ামী লীগের ধর্ম। দেশের মানুষ তা জেনে গেছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ