প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পদ্মা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় নগরীর প্রতিমাগুলো-সোনার দেশ

গতকাল মঙ্গলবার প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো হিন্দুধর্মাবলম্বীদের জনপ্রিয় শারদীয় দুর্গোৎসব। ঘোড়াই চড়ে ঘটা করে দেবী দুর্গা ষষ্টীতে এসেছিলেন ভক্তদের মাঝে। তারপর দেবীর অকালবোধনসহ নানা আয়োজন। অবশেষে বিজয়াদশমীতে ঘোড়াই চড়ে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা। ভক্তরা দেবী দূর্গাকে তুষ্ট করতে উৎসবমুখর পরিবেশে করে পূজা-আর্চনা। প্রতিটি মণ্ডপ সেজেছিল বাহারি সাজে। ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত ছিল মণ্ডপ। ঢাক ঢোল, খোল করতাল, আগরবতি, ধুপের ধুয়ো আর ভক্তদের উলু ধ্বনিতে দেবী দুর্গার বর পেতে ছিল নানা আয়োজন। পঞ্চপ্রদীপের আলোয় মায়ের দর্শনে মেতে উঠেছিল ভক্তরা। দশমীর সকালে সকল মণ্ডপে চলে সার্বজনীন সুখ-সম্প্রীতির প্রার্থনা। দেশ ও দশের কল্যাণে সনাতন ধর্মালম্বীরা দেবী দূর্গার পদতলে প্রদান করেন পুষ্পাঞ্জলি ।
এবার নগরীতে মণ্ডপ ছিল ৭৭টি। প্রতিটি মণ্ডপ ভক্তদের পদচারণায় ছিল মুখর। বিজয়াদশমীতে ছিল সকালের একটি পূজা। পঞ্চপ্রদীপের আলো না জ্বালিয়েই করা হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ পূজা। বিদায়ী ভোগ হিসেবে দেবীকে দেয়া হয় পান্তা ভাত, লুচি, খীর, মিষ্টিসহ দই ও চিড়া। পূজাতে ঘট না বসলেও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি ঘরে বসে দশমীর শেষ ঘট। এরপর সধবা নারীরা করেন সিঁদুর সাইত। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত হিন্দু শাস্ত্র মেনে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা নিরামিষ খেয়ে থাকেন। দশমীতে সকালের পূজার পর দুপুরে তারা খেয়ে থাকেন আমিষ। সকালেই আনন্দঘন মুহূর্তের মধ্যে দিয়ে পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
নগরীর ফুদকিপাড়া পদ্মা ঘাটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঝির ঝির বৃষ্টির মধ্যে দেয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন। সন্ধ্যার আগেই ভক্তদের ঢল নামে প্রতিমা বিসর্জন স্থলে। সন্ধ্যার পর একে একে নিয়ে আসা হয় বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা। সাতপাকে ঘুরানো হয় দেবী দূর্গাকে। ‘বল হরি হরি বল’, ‘বল দূর্গা মাইকে’, ‘দেবী দূর্গার জয়’, এমন নানা শব্দে শব্দে পদ্মায় বিসর্জন দেয়া হয় দেবীকে।
কুমারপাড়ার নমিতা ভৌমিক বলেন, আজকে মায়ের বিসর্জন তাই একটু খারাপ লাগছে। মা কে বিদায় জানাতে তো সবার একটু খারাপ লাগে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত অনেক আনন্দ করলাম। পরিবেশটাও আনন্দঘন ছিল। আজকে দশমীতে সকালে শেষ পূজা করা হয়। আমরা মায়ের কাছে বর প্রার্থনা করলাম যাতে আমরা সুখে শান্তিতে থাকতে পারি। সাবমিলিয়ে খুব সুন্দর ভাবেই আমরা এবারের পূজা উদযাপন করলাম।
এদিকে দেবীর বিসর্জন দেখতে আসা সবুজ ইসলাম বলেন, আজকে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের দেবীর বির্সজন দেয়া হবে। শেষ মুহূর্তে তাদের উৎসব দেখতে আসলাম। ঢাকের তালে তালে এমন অয়োজন ভালোয় লাগছে।
পূজা বিসর্জন উপলক্ষে প্রতিটি মণ্ডপে ছিল কড়া নিরাপত্তা। বিসর্জন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফুদকিপাড়া ঘাটের প্রতিটি রাস্তায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের সদস্য। সাদা পোশাকে নিয়োজিত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পূজা উদযাপন পরিষদ : এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের নগর সভাপতি ড. সুজিত সরকার, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, নগর পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অলোক কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক শরৎ চন্দ্র সরকার। শুভ বিজয়া দশমী উপলক্ষে গতকাল নগরীর ফুদকিপাড়া মুন্নুজান স্কুলের সামনে প্রতিমা বিসর্জনের ঘাটে নানান আনুষ্ঠানিকের মধ্যে দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে পদ্মা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন করা করা হয়। এই উপলক্ষে রবীন্দ্র-নজরুল মঞ্চে রাজশাহী সিটি কপোরেশ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে প্রতিমা বিসর্জন মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে মঞ্চে বিজয়া দশমীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অনিল কুমার সরকার, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার টেকন, ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নগর সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, নগর পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি অলোক কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক শরৎ চন্দ্র সরকার, কার্তিক চন্দ্র হালদার, রণজিৎ সাহা, উজ্জ্বল কুমার ঘোষ প্রমুখ। এ সময় সিটি কপোরেশনের সকল কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।