প্রতি বস্তায় লোকসান ৮শ’ টাকা: মাইকিং করে আলু বিক্রি

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


৮৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ফলে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। স্টোরজাত আলুতে লাভ তো দূরের কথা মূলধন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু তোলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ইতোমধ্যে বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। অথচ গত মৌসুমের আলু বিক্রি করতে না পারায় হিমাগারে পড়ে আছে অনেক আলু।
আড়ানীর আলু ব্যবসায়ী ইনামুল হক বলেন, চাষিরা স্টোরে হাজার হাজার মন আলু রাখে। বাৎসরিক প্রতি বস্তা ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা ভাড়ায় রাখে। এই আলু চাষিরা আর বিক্রি করতেও পারছে না, আবার স্টোর ভাড়ার টাকাও দিতে পারছে না। এমনকি তারা গ্যানোলা জাতের সাদা আলু স্টোর থেকে নিয়েও যাচ্ছে না। ফলে স্টোর মালিকরা ব্যবসায়ীদের আলু নিয়ে যেতে বলেছে। তাই তারা ট্রাক বোঝাই করে বিভিন্ন স্টোর থেকে আলু নিয়ে এসে এলাকায় মাইকিং করে ৮৪ কেজির বস্তা ২০০ টাকায় বিক্রি করা করছে।
উপজেলার গোচর গ্রামের আলু ক্রেতা মন্টু বলেন, অল্প দামের আলু দেখে গরু খাদ্য হিসেবে ৪০০ টাকা দিয়ে দুই বস্তা আলু কিনেছি। এই আলু সিদ্ধ করে গরুকে খাওয়াব।
বাগমারার আলু চাষিরা আফাজ্জল হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আলু ক্রয় করে হিমাগারে রেখেছিলাম। হিমাগারের ভাড়া ও ক্রয় মূল্য ৮৪ কেজির বস্তায় খরচ হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। বাজার পড়ে যাওয়ায় প্রতি বস্তায় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা লোকসানে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে । তারপরও এতো টাকা লোকশান দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছি না। ফলে আলু নিয়ে বিপদে আছি।
আড়ানী পৌর বাজারের পল্লী চিকিৎক ফজুলর রহমান বলেন, চাষিরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে আলু উৎপাদন করেছে। তবে এই এলাকায় ফিরোজ নামে এক ব্যক্তি ৩৩ শতাংশ জমিতে ৮০ থেকে ১২০ মন আলু উৎপাদন করে। খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আলু বর্তমানে মানুষ খাচ্ছে না। মানুষ গরুর খাদ্য হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে।
বাঘা উপজেলায় বাগমারা থেকে আলু বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী আবদুুল মালেক ও আজাদ আলী জানান, এবছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে স্থানীয় তিনটি হিমাগারে ২০ হাজার বস্তা আলু মজুত রেখেছিলাম এবং তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবিনা বেগম বলেন, এই উপজেলায় পদ্মার চরসহ ২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে। কমদামে আলু বিক্রি হচ্ছে এমনটা মাইকে শুনেছি। তবে উন্নত জাতের আলুর দাম এখনো ভালো আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ