প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যৌক্তিক পরিণতি পাবে?

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৯, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচদিনের সফরে এখন চিনে অকস্থান করছেন। তাঁর এই চিন সফরে বাংলাদেশে আশ্রয়লাভী রোহিঙ্গারা সমস্যার সমাধানে চিনা নীতির পরিবর্তন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে চিনের সদিচ্ছার ব্যাপারে সবাই গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ও বিষয়টি গুরুত্ববহ বলেই ধারণা করছে। কেননা মায়ানমারের বর্তমান সরকার চিনের সমর্থনের জোরেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। নানা অজুহাতে সমস্যা এড়িয়ে চলার নীতি গ্রহণ করেছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চিন সফরের মধ্য দিয়েই সমস্যার এখনই সমাধান হয়ে যাবে এটা বলা যায় না। বরং সমস্যাটিকে চিন যদি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে তবে একটা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা যেতে পারে। এটাও চিনের আন্তরিক মনোভাবের উপরই নির্ভর করছে।
অবশ্য রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরতে পারার মতো পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চিনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াং। বৃহস্পতিবার চিনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। চিনের প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে একমত যে, ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই এ সমস্যার সমাধান হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের উদ্যোগগুলো বৈঠকে তুলে ধরেন । প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টতই বলেন যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ওই এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হচ্ছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য এটা খুবই দরকার। যত দিন যাবে ততই এই চ্যালেঞ্জটা বড় হবে। সুতরাং এটার দ্রুত একটা সমাধান করা দরকার। আর সমাধান হল- এরা যেন তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারে।
কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি) রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেছে। সিপিসি’র প্রভাবশালী নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সং তাও মায়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠককালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
এটা বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা- যা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উপায়কে ত্বরান্বিত করতে পারে। কেননা ভূ-প্রাকৃতিক রাজনীতির কারণেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য চিনের গুরুত্ব যত বেশি তেমনি চিনের জন্য বাংলাদেশের বন্ধুত্ব মোটেও কম গুরুত্বপর্ণ নয়। বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করে চিন তার বৈশ্বিক রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়বে তেমন ভাবা অযৌক্তিক কিছু না। শুধু মিয়ানমারের স্বার্থ সুরক্ষা চিনের এ অঞ্চলের রাজনীতিতে খুব সুবিধে হবে বলে মনে হয় না। কেননা এ অঞ্চলে চিনের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতও প্রভাব-প্রতিপত্তিতে মোটেও পিছিয়ে নেই। এ ক্ষেত্রে নিশ্চয় চিন বাংলাদেশের সম্পর্ককে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখবেÑ এ প্রত্যাশা করাই যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন সয়র সেই প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে স্পষ্ট করেছে। এখন চিনের সদিচ্ছাই যথেষ্টÑ যার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা সম্মানজনক সমাধান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ