প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সফল হোক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের কাছে অনুসরণীয়-অনুকরণীয় হিসেবেই দেখছে উন্নয়নশীল অনেক দেশ। সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের যথেষ্ট অগ্রগতি বিশ্বের নজর কেড়েছে। সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অভিযাত্রা যা বাঙালি জাতিকে সমুন্নত মর্যদার অভিষেক- সূচনা করেছে।
আর এটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি আজ রাজশাহী আসছেন। তাঁর আগমনকে ঘিরেই দিকে দিকে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, উৎসাহ উদ্দীপনাÑ জয়জয়কার। তাঁর কাছেই যত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব। তিনি সব কিছু হারিয়ে দিতেই অভ্যস্ত হয়েছেন। দেয়াতেই তার আনন্দ। জনগণের কষ্টই তাঁর বেদনা অশ্রুর কারণ। পথে বিছানো মরণ কাটা জেনেও তিনি দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য নিষ্ঠার সাথে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেনÑ ভয়ভীতি সেখানে নেহাতই তুচ্ছ, অতি তুচ্ছ। তাঁর এই সাহস, তাঁর কর্মনিষ্ঠা, তাঁর সততা, তাঁর অহংবোধ বাংলাদেশকে সুমহান মর্যাদা এনে দিয়েছে।
সেই শান্তি দূত আজ রাজশ্হাী আসছেন। রাজশাহীর মানুষ প্রস্তুত তাঁকে বরণ করে নিতে। হৃদয়ের ভালবাসায় সিক্ত করতে। তিনি বারবার রাজশাহী এসেছেন, আর জয় জয় করেছেন রাজশাহীর মানুষের মন। তিনি যে বদলে দেন, বদলান ইতিবাচকভাবে। সেই দিনবদলের পালায় বাংলাদেশকে বলিষ্ট নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এগিয়ে নিচ্ছেন।
তাঁর নেতৃত্বগুনেই বাংলাদেশের ঈর্ষান্বিত অগ্রযাত্রা। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদে অস্বস্তিতে বিড়ম্বিত বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক অগ্রগতির অভিযাত্রায় মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত উন্নতি এবং সামজিক নিরাপত্তায় বিশ্বে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব শান্তি স্থাপনেও বাংলাদেশ নজর কেড়েছে বিশ্বের। এসব সাফল্য এসেছে মানবদরদি নেতা শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বগুনেই।
‘‘চূড়ান্ত বিজয় জণগণ ও ন্যায়ের পক্ষে এবং জনগণের অধিকার হরণের জন্য জাতিগত ও বৈষম্য সৃষ্টি, সেনাবাহিনী ব্যবহারসহ সকল জুলুম ও বেআইনি শোষক ও শাসকরা নিক্ষিপ্ত হয় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। জয়ী হয় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ।’’ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল একটি ন্যায় পরায়ন ও শান্তিকামী উন্নত আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপক্ষে একটি স্মরণীয় দলিল। তাঁর এই বক্তব্যে শান্তি ও সংহতির কথাই সেদিন ঘোষিত হয়েছিল। একই আদর্শে উজ্জীবিত বঙ্গবন্ধু তনয়া কন্যা শান্তির পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহবান জানাচ্ছেন। দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, মমত্ব জাগরিত না হলে এমন করে কেউ কাজ করতে পারে না। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য জীবনের ঝুঁকি মেনে নিয়েই শান্তির পক্ষে কাজ করে যেতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে। এখানেই তিনি অনন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছেন তিনি।
জননেত্রী শেথ হাসিনা যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন যে, যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করেই সেই অন্তরায় সরাতে হবে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সে কথাও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার এখন এক বাস্তবতা। অসম্ভবকে সম্ভব করার স্পর্ধা তিনিই দেখাতে পেরেছেন- যা বাংলাদেশের মানুষের আকাক্সিক্ষত ছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। এর ফলে আইনের শাসনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে সে তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বদৌলতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজশাহী সফর সফল হোক এই প্রত্যাশা রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ