প্রবল বর্ষণের পর বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৭, ১২:০২ অপরাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


মহাদেবপুরে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা-সোনার দেশ

বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপায়নবাবগঞ্জ, নাটোর, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুরসহ ১৮ জেলার মহাদেবপুরসহ ১২৫টি উপজেলায় রোপা আমনের জমি তৈরি, চারা উত্তোলন ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের পাশাপাশি আমনের চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে নারী কৃষি শ্রমিকদের।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর, পোরশা ও পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমনের চারা রোপণের কাজ। ইতোমধ্যেই ৫০-৬৫ ভাগ জমির রোপা আমন রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট জমির চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন। এবার রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত পরিমানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অন্যান্য বছরের মতো আমনের জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না কৃষকদের। বৃষ্টির পানিতে স্বাচ্ছন্দে আমনের চারা রোপণের কাজ করছেন কৃষকরা। বিগত বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপণের কাজ করতে হতো। সেক্ষেত্রে প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে সেচ বাবদ কৃষককে ১৫০ থেকে ২শ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হতো। এবার পর্যাপ্ত পরিমানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত নওগাঁ জেলার এবার দুই লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মহাদেবপুর উপজেলায় ২৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে রোপা আমন চাষে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। অধিক ফলনের আশায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমান জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা রোপণ করছেন। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণা-৫, গুটি স্বর্ণা ,বিআর ১১, ব্রিধান ৩৩, ব্রিধান ৫১, ৫২ ও বিনা- ৭।
মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ ও নাটশাল গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, এবার তারা অধিকাংশ জমিতেই স্বর্ণা-৫ জাতের ধান রোপণ করেছেন। বাকি জমিতে চিনিআতোব ধান লাগাবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেন। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, স্বার্ণা-৫ জাতের ধানে রোগবালাই কম হয় এবং উচ্চ ফলনশিল বলে এই ধান বেশি লাগিয়েছেন। পাশাপাশি চিনিআতোব ধানের দাম বেশি পাওয়া জায় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পোলাও বিরানি খুব মজাদায়কভাবে খাওয়া জায় বলে চিনিআতোব ধান চাষে অধিক আগ্রহ।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম মফিদুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলে এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ