প্রশ্নফাঁসের নামে প্রতারণা: রংপুরের ওসির ছেলে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৮, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চক্র চালানোর অভিযোগে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসির ছেলেকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
গ্রেপ্তার মো. এহসানুল কবির রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়ায় ছেলে। তাদের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি থানার গোরিয়ালি গ্রামে। ঢাকায় এহসানুল থাকতেন মালিবাগ বাজার রোডের একটি ফ্ল্যাটে।
বৃহস্পতিবার ওই বাসায় অভিযান চালিয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শুক্রবার র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
র‌্যাব বলছে, এহসানুল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা নিয়ে ভুয়া প্রশ্নপত্র আদান-প্রদান করতেন।
“নিজের হোয়াটাঅ্যাপ গ্রুপের ‘চবৎ ছঁবংঃরড়হ ৩০০ টাকা ঐঝঈ’ এবং ফেইসবুকে ‘কঁংবহ উবঃধ’ নামে আইডি খুলে প্রশ্নফাঁসের প্রচারণা চালাত, ওইসব আইডিও অ্যাডমিনও সে।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এহসানুলের বাবা পুলিশ পরিদর্শক বাবুল মিয়া টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। সে এসবে জড়িত না। তাছাড়া তার অটিজমের সমস্যা আছে।”
তবে গ্রেপ্তার এহসানুলের বাবার পুলিশ পরিচয় বা তার বক্তব্য নিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে ও পরীক্ষার দিন সকালে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত এসএসসির প্রায় সবগুলো পরীক্ষার প্রশ্নই পরীক্ষার দিন সকালে ফেইসবুকের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
প্রশ্ন ফাঁসরোধে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার আগে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার এখনও এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে তা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র‌্যাব বলছে, এহসানুল দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিতে বিকাশের মাধ্যমে। এরকম ত্রিশটির বেশি গ্রুপের অ্যাডমিনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।
র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার এহসানুলের হোয়াটাসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা এক হাজারের বেশি। নামে-বেনামে ফেইসবুক ও হোয়োটসঅ্যাপে অনেক গ্রুপ খুলেছেন তিনি।
“সবাইকে প্রশ্ন দিব, তবে ঙৎরমরহধষ ছাত্র হতে হবে, আগে ঈড়সসড়হ, পরে টাকা’, ‘প্রশ্ন আউট হওয়া মাত্রই আমি তোমাদের দিয়ে দিব, রিয়েল প্রশ্ন বের হলে আমিই দিব, তোমাদের বলতে হবে না”- এরকম বক্তব্য সংবলিত পোস্ট দিয়ে এহসানুল শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতেন বলে জানানো হয় র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ