প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৮-১৯ বাস্তবায়নই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ

আপডেট: জুন ৯, ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার (যা জিডিপির ১৮.৩ শতাংশ) বিশাল বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন।
এবারের বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছর বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতির সব খাতের সুষম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রা’ শিরোনামে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাজট প্রস্তাবনার পর সংবাদ মাধ্যমে বাজেটের পক্ষে পক্ষে নানা আলোচনা- সমালোচনা চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমালোচনা শুধু সমালোচনার জন্যই। আবার সমালোচনার অনেক দিকই আছে যেগুলি পালনীয় বিষয়।
সব বাজেটই অনিশ্চিত। এর সফলতা নির্ভর করে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। সক্ষমতাও যে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা তো অস্বীকার করা যায় না। সক্ষমতার পথ ধরেই তো দারিদ্র হার আশাতীতভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দেশের মানুষেন গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নতি হয়েছে, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও কমেছে। এসব কিছু তো হতাশার চিত্র নয়। বরং উন্নত এক বাংলাদেশের প্রত্যাশাকেই জাগিয়ে তুলেছে।
রাজস্ব আদায়ের প্রতি আরো বেশি মনোযোগী ও সক্ষমতা দেখাতে হবে। বাস্তবায়নই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ। বাজেটের আকার নিয়ে দুর্ভাবনারও কিছু নেই। ১৭ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নিরিখে বছর বছর বাজেটের আকার বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। প্রস্তাবিত বাজেটকে কেউ কেউ নির্বাচনী বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এটা আর নতুন কী? বাজেট তো রাজনৈতিক দর্শনেরই প্রতিফলন। যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে তারা তাদের রাজনৈতিক দর্শন অনুসারেই বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে থাকে। নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে যত বাজেট হয়েছে তার সবগুলোতেই রাজনৈতিক দর্শনের ছাপ স্পষ্ট ছিল। বাংলাদেশের নিরিখে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং বাজেট বাস্তবায়ন, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি সব সময়ই ছিল, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশ্নটি থাকবেই। এ ব্যাপারে আরো সোচ্চার ভূমিকা রাখার প্রয়োজন আছে।
২০০৯ সালে প্রথম বড় আকারের বাজেট দেয়া হয়েছিল। তখনও সেটা নিয়েও বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। উচ্চাকাক্সিক্ষ বাজেট, এর সাথে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই ইত্যাদি, অনেক কথাই বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই বাজেট ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এমনটি বলার কোনো সুযোগ পরবর্তী সময়ে ছিল না। ওই বাজেট বাস্তবায়নের হার হতাশাজনকও ছিল না। প্রবৃদ্ধি হার, মূল্যসম্ফীতি নিরাপদ জায়গাতেই শুধু নয়, উত্তরণও ঘটেছিল, যা অব্যাহত আছে। এটাতো ্ক্রমাগত উন্নয়নেরই সাক্ষ্য দেয়।
তবে এটা ঠিক যে, দেশে আয় বৈষম্য আছে, কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুর্নীতি আছে, কর্মসংস্থানের অভাব আছেÑ অবশ্যই এগুলো বাজেট বাস্তবায়নের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সাখে এনবিআর এর দক্ষতা ও সক্ষমতার বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। কেননা দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি সময়ের চাহিদা, তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞানের সাথে মিলিয়ে নতুন নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়াটা জ্ঞান উৎকর্ষতার একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রস্তাবিত বাজেটে পরোক্ষ কর নির্ভরতা সেই আগের মতই। প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বরোপ করতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি পাবে, তাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। ব্যাজেট ব্যবস্থাকে প্রত্যক্ষ কর নির্ভরতার মধ্যে আনতে হবে। এই দাবিটিও আরো জোরোলোভাবে সামনে আনতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ