প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই জাতির শিক্ষার শ্রেষ্ঠ কারিগর

আপডেট: আগস্ট ২, ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

মো. ওসমান গণি


শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। হোক সেটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষক তো শিক্ষকই শিক্ষার যে স্তরেরই হোক। বাঙালি সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষকতার স্তরবিন্যাস করা হয়। যেমন-প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষক। প্রায় দুইশত বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও চব্বিশ বছর পাকিস্তানি শাসন ব্যবস্থায় সমাজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্যান্য স্তরের শিক্ষক থেকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। উন্নত বিশ্বে শিক্ষকতার সকল স্তরকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। হোক সেটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা উচ্চ স্তরের শিক্ষক। উন্নত দেশে শিক্ষকদের যোগ্যতাভিত্তিক বেতনও প্রদান করা হয়। আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত যোগ্যতাভিত্তিক ও স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার আটচল্লিশ বছর পরও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদায় রাখা হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ( ইধংরং) ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে পারলেই, শিক্ষার অন্যান্য স্তরের ভিত্তিও মজবুত হবে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। শিক্ষকদের উন্নতমানের শ্রেণি পাঠদানের জন্য দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালে পাঠ্যপুস্তক আধুনিক মানের করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি ধরেই আবারও এই স্তরের শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই দেওয়া হবে। পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি, ২০২২ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং ২০২৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই দেওয়া হবে। আর এই পাঠ্য বই পরিবর্তনে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ শিক্ষাক্রম গুরুত্ব পাবে।
২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা বৃত্তি প্রদান করা হয়। বর্তমানে মেধা বৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বৃত্তির টাকার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় মেধা ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয় ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে। গুণগত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য শতভাগ উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। জুলাই ২০১৯ থেকে ১৬টি উপজেলায় চালু করা হবে দুপুরে খাবার কর্মসূচি। পরবর্তীতে আরও দারিদ্র্য প্রবণ ১০৪টি উপজেলার সবগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল নীতি চালু করা হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা অফিসারদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক জরিপ (২০১৮) অনুযায়ী নিট ভর্তির হার ৯৬.৪৮% এবং শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৮.৬%। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিট ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়ার হার কমানোর জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা জোরালোভাবে কাজ করছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আটচল্লিশ বছরে প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে যে কাজ করছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুরাই অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে। কারণ আজকে যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু ২০৪১ সালে তাঁরাই বাংলাদেশ গঠনে সাহসী ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারের গৃহীত ২০২০ সালের ১৭ মার্চ ‘মুজিদ বর্ষ’ পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের প্রাক্কালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দাবী এগারোতম গ্রেডে বেতন প্রদান করার কথা বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হওয়া যাচ্ছে। ১৪ মে ২০১৯ সালে মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সাথে প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের এক বৈঠকে তিনি এগারোতম গ্রেডের বেতন প্রদান করার কথা বলেন। (সূত্র : দৈনিক সোনার দেশ, ১৫মে ২০১৯)
এছাড়া ২০ মে ২০১৯ সালে ঢাকা পিটিআই’র কনফারেন্স হলে “উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং” অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জনাব জাকির হোসেন বলেন, সহকারী শিক্ষকদের থেকেই শতভাগ পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক করা হবে। আর নতুন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হবে না। (সূত্র : দৈনিক সোনার দেশ, ২১ মে ২০১৯) তিনি আরও বলেন, সহকারী শিক্ষকদের থেকে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে শুরু করে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে।
২৬ মে ২০১৯ দৈনিক সমকাল পত্রিকায় লেখা হয়েছে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কপাল খুলছে’ অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষকসহ ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তা হতে পারবে। খবরটি সহকারী শিক্ষকদের জন্য অবশ্যই মহা আনন্দের। গ্রাম বাংলায় একটি কথা প্রচলন আছে আর তা হলো- ‘ভালো হওয়া ভালো, তবে বেশি ভালো হওয়া কিšুÍ ভালো নয়’। কারণ বেশি ভালোর মধ্যে অনেক গলদ থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সরকার এন্ট্রি পদ ধরে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি দেবে তা সহকারী শিক্ষকদের জন্য ভালো। কারণ ২০১৯ সালের শিক্ষক নিয়োগ বিধিতে প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫% পদোন্নতির বিধান ছিল। সহকারী শিক্ষকদের দাবী ছিল শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি। ১৪ এপ্রিল ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি আবারও সংশোধন করে প্রধান শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ১৯৮৫ (১৯৯৫) এর নিয়োগ বিধি পরিবর্তন করে সহকারী শিক্ষকদের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়াও হবে।
১৯৯৮ সালের নিয়োগ বিধি দ্বারা সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির পদ রুদ্ধ করা হয়। সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিধান চালু করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। সহকারী শিক্ষক থেকে কর্মকর্তা করা হবে তা শুনে একটু অবাকই হলাম। সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবী এগারোতম গ্রেডের স্বপ্ন বানচাল করার জন্য কি সহকারী শিক্ষকদের কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে? সহকারী শিক্ষকদের একটি দাবী সবার আগে এগারোতম গ্রেডের বাস্তবায়ন চাই, তারপর সহকারী শিক্ষকদের কর্মকর্তা বানান।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতির দিকে, প্রবৃদ্ধির হার আট শতাংশের কাছাকাছি। মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলার। গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ বছর ৩ মাস ১৮ দিন হয়েছে। জীবনযাত্রার মানেরও অনেক উন্নতি হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বছরেই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকে তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদার অবসান চায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাতি গঠনের কারিগর আর তাঁরাই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তাহলে আগামী দিনের প্রজন্ম কিভাবে এগিয়ে যাবে? উন্নত, সমৃদ্ধ ও মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। সকল শিক্ষার সূতিকাগার হলো প্রাথমিক শিক্ষা। সহকারী শিক্ষকদের দাবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদের অবসান হওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই শিশুদের উন্নত স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করে। সেই শিক্ষকেরাই নিজেরাই যখন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তাহলে তাঁরা কিভাবে শিশুদের উন্নত স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করবে।
২০৪১ সালে যারা উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে সেই শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করে গড়ে তোলার জন্যই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্যহীন ও শোষণহীন সোনার বাংলা গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। কিšুÍ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আজ পর্যন্ত নন-ভকেশনাল মর্যাদা দেওয়া হয়নি। একই মন্ত্রণালয়ে চাকরি করে শিক্ষা অফিসারদের নন-ভ্যাকেশনাল মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যারা প্রাথমিক শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি শিক্ষকদের নন-ভ্যাকেশনাল পাওয়ার কি অধিকার নেই? শিক্ষকদের দাবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও নন-ভ্যাকেশনাল ঘোষণা দেওয়া হোক।
বর্তমান সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সময়সূচি সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের সময়সূচী সকাল ৯ টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত(বৃহস্পতিবার ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত)। পূর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মঘণ্টা বর্তমানের চেয়ে কম ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে কম সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছোট অথচ তাদেরকেই বিদ্যালয়ে বেশি সময় অবস্থান করতে হয়। এ এক বিস্ময়কর ব্যাপার। যারা ছোট তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম সময় অবস্থান করবে, আর যারা বড় তারা বেশি সময় অবস্থান করবে- এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের নিয়ম উল্টো।
এক শিফটের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা এবং পাঠদানের সময় মিলে প্রায় ৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করার ফলে শিক্ষার্থীদের শৈশব ও কৈশোরের অনাবিল আনন্দ কি জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে না? আর এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ কি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না? যেখানে মনোবিজ্ঞানী, শিশু মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের ওপর জোর দিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতি দূর করার জন্য কোনো কোনো পরীক্ষা তোলে দেওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে লক্ষ্য রেখে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমানো উচিত। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মঘণ্টা সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ২ টা পর্যন্ত করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছে শিক্ষকেরা।
দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা’(এসডিজি) বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) ১৭ টি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে গেলে সবার আগে ৪ নং লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। আর ৪ নং লক্ষ্য হলো সকল শিশুর জন্য ‘মান সম্মত শিক্ষা’। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গুণগত ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবার আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র গঠনে এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছিলেন। আর এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর শিক্ষার দর্শন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে যে শিক্ষার দর্শন জাতিকে দেখিয়েছিলেন ইউনেস্কো (টঘঊঝঈঙ) ১৯৯৬ সালে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষার দর্শনের ফলেই প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা সম্ভব হয়েছিল। স্বাধীনতার মাত্র দেড় বছরের মাথায় যুদ্ধ বিধস্ত দেশে ৩৭ হাজার ৬৭২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষার দর্শনই আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোল মডেল।
লেখক : সহকারী শিক্ষক, মচমইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগমারা, রাজশাহী