বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

প্রেমিকাকে হত্যায় ব্যবহৃত হলো অ্যাপ

আপডেট: November 14, 2019, 12:57 am

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রাক্তন প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সি এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। প্রাক্তন প্রেমিকার ওপর নজরদারি করার জন্য তিনি গাড়ির বিল্ট-ইন ট্র্যাকিং অ্যাপটি ব্যবহার করেন। অ্যাপটি লোকটিকে তার প্রাক্তন প্রেমিকার অবস্থান সম্পর্কিত লাইভ আপডেটগুলো ই-মেইল করত যা হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া সেই মহিলা জানত না। ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করে ওই ব্যক্তি তার প্রেমিকার গাড়িটি চালাতে এবং থামাতেও পারত।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি সম্পর্ক থাকাকালীন সময় প্রেমিকাকে ল্যান্ড রোভার কিনতে সহায়তা করেছিলেন। তিনি গাড়িটির শনাক্তকরণ নম্বরে (ভিআইএন) অ্যাকসেস পেয়েছিলেন এবং এটি ব্যবহার করেই গাড়িটিতে ট্র্যাকিং অ্যাপটি সেট আপ করেন।
তিনি তার প্রাক্তন প্রেমিকার ফোনের অবস্থান এবং তার কর্মক্ষেত্র এবং যেখানে সে গাড়ি পার্ক করত সেখানকার ম্যাপ ডাউনলোড করার জন্য একটি মাসিক স্পাইওয়্যার সাবস্ক্রিপশনও কিনেছিলেন।
ওই মহিলা তার গাড়ির ট্র্যাকিং সম্পর্কে কিছুই জানত না। সে ওই লোকটির কার্যকলাপের মাত্রা সম্পর্কে তখনই জানতে পারে যখন সে নিজের গাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া ফোনটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করে। পুলিশ ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছিল যেখানে সে ভিকটিমের বিবরণ, যেখানে সে প্রায়শই যেত বা দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করত তার বিবরণ লিখে রেখেছিল। পাশাপাশি এতে সে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং তাদের দামের তালিকাও লিখে রেখেছিল।
ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহর করে ভিকটিমের গাড়ি ট্র্যাক করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সেপ্টেম্বরে এক ব্যক্তিকে তার প্রাক্তন প্রেমিকার গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানোর দায়ে আড়াই বছর কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১৮ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে প্রাক্তন প্রেমিকের গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস সংযুক্ত করার দায়ে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়ার এই মামলায় অভিযুক্ত লোকটির তার শিকারকে শনাক্ত করার জন্য কোনো অতিরিক্ত গ্যাজেটের দরকার পড়েনি। কেবল গাড়িতে ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করেই সে তার কার্য সম্পাদনে সমর্থ হয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন যে, গাড়িতে ব্যবহারযোগ্য এই লোকেশন ট্র্যাকিং অ্যাপ অপরাধ সংঘঠনের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।