বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

প্লাস্টিক দূষণে শীর্ষে তরুণরাই তরুণরাই পারে প্রতিরোধ করতে

আপডেট: January 19, 2020, 12:24 am

গতকাল শনিবার দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় পাশাপাশি দুটি সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। একটির শিরোনাম-‘প্লাস্টিক দূষণে শীর্ষে তরুণ-যুবরা’ এবং অপর সংবাদের শিরোনাম হলো- ‘ প্লাস্টিক ও বর্জ্যমুক্ত পরিচ্ছন্ন পদ্মা নদীর দাবি তরুণদের’। প্রথম সংবাদ শিরোনামে তরুণরা প্লাস্টিক দূষণে দুষ্ট এবং পরেরটি প্লাস্টিক দুষণমুক্তির জন্য তরুণদের দাবি। অর্খাৎ উভয় ক্ষেত্রেই তরুণরা পরিবর্তন করতে পারে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য সাহস, শক্তি, মেধা ও মনন তাদের আছে। তবে পরিবর্তনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই আছে। দেশ ও দেশের মানুষ চায় তরুণরা ইতিবাচকভাবেই দেশটাকে পাল্টে দিক। তাদের এই কৃতিত্ব যাতে দেশ ও জাতির জন্য সারা বিশ্বে সম্মান ও সুনাম বয়ে আনতে পারেÑ এমনকি অন্য দেশকেও পথ দেখাতে পারে। ওই সংবাদের দ্বিতীয় শিরোনামের সারথীরা সেই ইতিবাচক ধারণারই পথ দেখাচ্ছে।
প্লাস্টিক পণ্য সারা পৃথিবী জুড়েই মহা-আপদের মত জীবন, প্ররিবেশ, প্রতিবেশ ও যোগ্য বসবাসকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী প্লাস্টিক যেহেতু পচনশীল নয়, তাই ব্যবহারের পর যেসব প্লাস্টিক পণ্য ফেলে দেয়া হয়, তার অধিকাংশই যুগের পর যুগ একইভাবে পরিবেশে টিকে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক গবেষণায় বলেছে, মুদি দোকান থেকে কেনা পণ্য বহন করার জন্য যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে। চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যেসব প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ডায়াপার এবং প্লাস্টিক বোতল ৪৫০ বছর পর্যন্ত পচে না। ভাবতেই গা শিউরে উঠে।
উন্নয়ন সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন কর্তৃক ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ এবং যুবকরাই বাংলাদেশে পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। যেসব খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের প্যাকেট রয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে তরুণ এবং যুবকেরা- যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়, তার ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে ১৫-২৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী, আর এ ধরনের প্লাস্টিকের ৩৩ শতাংশ ব্যবহার করে ২৬-৩৫ বছর বয়সীরা।
অন্যদিকে রাজশাহীর একদল যুবক স্লোগান দিচ্ছেÑ ‘প্লাস্টিক ও বর্জ্য মুক্ত পরিচ্ছন্ন পদ্মাপাড়, জীবন্ত নদী তারুণ্যের অঙ্গীকার’। এ ব্যাপারে পদ্মা নদীর তীরে প্রচারণাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও অভিযান চালাচ্ছে তারা। আমরা মনে করি প্লাস্টিক পণ্য নিরুৎসাহিত করার জন্য প্রচারণার পরিধি যেমন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত হওয়া দরকার, তেমনি প্রচারাভিযানে তরুণ ও যুবকদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার সময় এখনই। তরুণরাই প্লাস্টিক বিরোধী কর্মসূচি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারে। এ ব্যাপার সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে নিবিড় কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ