প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের ভয়বহতা বাংলাদেশেরও প্রস্তুতি নেয়ার সময় এসেছে

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৯, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

২০২১ সাল থেকে কানাডায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। একে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা দিচ্ছি যে ২০২১ সাল থেকে কানাডা ক্ষতিকারক প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করবে।’ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আেিরা উল্লেখ করা হয়েছে, সামুদ্রিক প্রাণীকে বিষাক্ত ও আহত করার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে প্লাস্টিকের সর্বব্যাপি উপস্থিতি মানুষের হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলছে। এটি জীবন শঙ্কাকারী নানা রোগ ও আগাম বয়ঃসন্ধির একটি বড় কারণ। প্লাস্টিকের অধিক ব্যবহার আমাদের গ্রহের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জও বাড়িয়ে তুলছে। এসব দূষণ বন্ধের জন্য লাখ লাখ ডলার ব্যয়ে প্রচারণা শুরু করেছে বিভিন্ন সংগঠন।
প্লাস্টিক পণ্য বহুমাত্রিক সমস্যা। মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতিকে সমানভাবেই ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এটা বিশ্বের মানব সম্প্রদায় মানছে এবং সেটা সঙ্গত কারণেই। উপলব্ধি যদি তা-ই হয় তা হলে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করা। প্লাস্টিকের ব্যাপক ও বহুমুখি ব্যবহারের প্রবণতা হঠাৎ করেই বন্ধ করা যাবেÑ ব্যাপারটি তেমন নয়। তবে যতদ্রুতসম্ভব প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প ব্যবহারের দিকেÑ যা প্রকৃত ও প্রাণের অনিষ্ট করবে না, সেদিকেই মনোনিবেশ করতে হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলছেন, প্রতি বছর ১০ শতাংশেরও কম প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহার করা হয়। একটি উন্নত দেশের যদি এই চিত্র হয় তা হলে বাংলাদেশের চিত্র নিঃসন্দেহে আরো করুণ। অর্থাৎ প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার নিয়ে উন্নত বিশ্ব যা ভাবছে তা বাংলাদেশকেও নিজেদের মত করে ভাবার সময় এসেছে। বাঙালির সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারায় তৈজষপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা যা পেছনে ফেলে এসেছি তার পুনরুজ্জীবন সমস্যা উত্তরণে আমাদেরকে পথ দেখাতে পারে। একটা সময় ছিল যখন মাটির তৈরি তৈজষপত্রের বহুল ব্যবহার ছিল। প্লাস্টির প্রবল প্রভাবে মৃৎশিল্প অনেকটা হারাতে বসেছে। নতুন প্রযুক্তির আলোকে এ শিল্পের পুনরুত্থান প্লাস্টিকের অনেকখানি জায়গা পুনঃউদ্ধার করতে পারে। এখন তো স্ট্র, প্লাস্টিকের ব্যাগ, চামচ, প্লেটসহ অন্যান্য প্লাস্টিক দ্রব্য দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সামগ্রী তৈরিতে দেশজ পণ্যের ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায় সেই চিন্তাটা এখনই আমাদের করার সময় এসেছে। মোটের উপর প্লাস্টিক পণ্যকে নিরুসাহিত করতে হবে যেমন, তেমনি এর বিকল্পও মানুষের নাগালে সহজলভ্য করে পৌঁছে দিতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশেও একটা লক্ষ্য নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয় যে, বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধ করবে। প্রাণ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করা নিশ্চয় আমাদেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য। এতেই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ