ফাইভজি সমর্থিত আইফোন এখনই নয়

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিশ্বব্যাপী পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি উন্নয়নে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী বছর থেকে ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হবে। বহুজাতিক নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও ডিভাইস নির্মাতারা ফাইভজি সমর্থিত পণ্য আনতে কার্যক্রম জোরদার করেছে। একমাত্র মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল বলছে, ফাইভজি পণ্য এখনই নয়। দ্রুতগতির এ নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি সমর্থিত আইফোন পেতে গ্রাহকদের অন্তত আরো দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ম্যাক রিউমারস ও অ্যাপল ইনসাইডার।
ডিভাইস নির্মাতাদের কে প্রথম ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন উন্মোচন করবে, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফাইভজি আইফোন উন্মোচনে অ্যাপলের দেরি করার সিদ্ধান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংকে লাভবান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী বছরের প্রথম দিকেই ফাইভজি স্মার্টফোন উন্মোচন করবে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের প্রডাক্ট পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উদ্ভাবনী অনেক প্রযুক্তিই নিজেদের পণ্যে দেরিতে সংযুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে, ওয়্যারলেস চার্জিং, অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড বা ওএলইডি ডিসপে এবং মোবাইল পেমেন্ট সেবাসহ আরো কিছু।
ম্যাক রিউমারসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল বরাবরই তাদের গ্রাহকদের সঠিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে চায়। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরপরই তাতে অনেক ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে সফটওয়্যার হালনাগাদ বা অন্য কোনো উপায়ে এসব ত্রুটি সারানো হয়। যে কারণে নতুন প্রযুক্তি নিজেদের পণ্যে সংযোজনের ক্ষেত্রে বরাবরই দেরি করে আসছে অ্যাপল।
আইফোনে ওয়্যারলেস প্রযুক্তি সংযোজনের ক্ষেত্রে দেরি করেছে অ্যাপল। তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি থ্রিজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর পর প্রায় এক বছর অপেক্ষা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে তবেই আইফোনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফোরজি এলটিইর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ার পর তা আইফোনে সংযোজনের ক্ষেত্রে দুই বছরের বেশি সময় নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালে ফোরজি এলটিই সংযোগ-সুবিধার আইফোন ৫ উন্মোচন করেছিল অ্যাপল। তবে ফাইভ সমর্থিত আইফোন পেতে গ্রাহকদের অপেক্ষা আরো বেশি দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ডিভাইস নির্মাতাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বহুজাতিক সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা কোয়ালকম এরই মধ্যে তাদের প্রথম ফাইভজি মডেম চিপ উন্মোচন করেছে, যা ফাইভজি ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহার হবে। আগামী বছরের মধ্যেই ফাইভজি নেটওয়ার্ক সমর্থিত কয়েকটি ব্র্যান্ডের মোবাইল ডিভাইসের সরবরাহ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফাইভজি আইফোনের অপেক্ষা কতটা দীর্ঘায়িত হবে? বিষয়টি নিয়ে অ্যাপলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের বিশ্লেষক মার্ক হাং বলেন, সেলুলার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অ্যাপল সবসময়ই মন্থরগতি দেখিয়ে এসেছে। নতুন সেলুলার প্রযুক্তি দেরিতে পরিচয় করালেও অতীতে অ্যাপলের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। সামগ্রিক বাজার বিবেচনায় ফাইভজির ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে অ্যাপল। যদি ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণে আগামী দুই বছর কাটিয়ে দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে অ্যাপলের ডিভাইস ব্যবসায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, গিগাবিট এলটিই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগেই। তবে চলতি বছর নতুন তিন আইফোনে প্রথম এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে অ্যাপল। গিগাবিট এলটিই হলো, মোবাইল ইন্টারনেট-সংশ্লিষ্ট একটি দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি। ফাইভজি নিয়ে নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ও ডিভাইস নির্মাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ার কয়েক বছর পর নিজেদের পণ্যে এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করবে অ্যাপল। অর্থাৎ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস নির্মাতারা ফাইভজি সমর্থিত হ্যান্ডসেটের বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরুর এক থেকে দুই বছর পর আইফোনে ফাইভজি প্রযুক্তি সংযোজন করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
টেক জায়ান্টটি এমন করবে তা অস্বাভাবিক নয়। কারণ ফাইভজি নেটওয়ার্ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করছে কোয়ালকম। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ব্যবসায় সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছে অ্যাপল। এখনো দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মামলা চলছে। কার্যত নতুন কোনো ফাইভজি নেটওয়ার্ক চিপ নির্মাতার সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কিছুই করতে পারবে না।