ফুল রফতানির নীতিমালা না থাকায় হতাশ চাষী ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ফুল চাষে স্বচ্ছল হয়ে উঠা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ফুল রফতানির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলা একাডেমিতে হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্টে আসা কৃষকরা বলছেন, কোনো নীতিমালা না থাকায় দেশের বাইরে ফুল রফতানি করতে পারছেন না। রফতানির মাধ্যমে নিজেদের স্বচ্ছলতার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে চান তারা।
ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউভেশন সেন্টার ফর এন্টারপ্রাইজ (আইআইসিই) ও বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির (বিএফএস) আয়োজনে বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে শনিবার রাতে শেষ হয় তিন দিনব্যাপী এই মেলা।
ফুল উৎসবে অংশ নেওয়া গুলশান ইভেন্টের কর্ণধার এম এ রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হওয়া ফুল ব্যবসা এখন সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত হচ্ছে। কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে ফুল উৎপাদন করছেন। গুণগত মান বেড়েছে। এখন আমরা চিন্তা করছি রপ্তানির কথা। কিন্তু কিভাবে রফতানি করব, তার তো কোনো নিয়মকানুন নেই।”
যশোর পুস্পালয়ের কর্ণধার মাধবী ইয়াসমীন বলেন, “নীতিমালা প্রণীত হলে তাতে প্রান্তিক কৃষকও সুবিধাভোগ করতে পারেন।”
১৯৮৩ সালে রজনীগন্ধা ফুল চাষের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৪টি জেলায় ১২ হাজার একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। ফুল চাষ, বিপণন ও ফুল কেন্দ্রিক নানা কাজে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই সেক্টরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দেশে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার ফুল।
ফুল চাষে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা জানান উৎসব আয়োজক বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম।
তিনি বলেন, “ফুল একটি সম্ভাবনাময় খাত হলেও ঢাকায় কোনো  স্থায়ী পাইকারি বাজার নেই, নেই গবেষণাগার।”
তার অভিযোগ, রাজধানীর গাবতলীতে ফুলের স্থায়ী পাইকারি বাজার ও যশোরে একটি গবেষণাগার স্থাপনে সরকারি সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিফলনই তারা দেখতে পাচ্ছেন না।
ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি রহিম ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনার পাশাপাশি সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।
“ভালো বীজ ও ফুল সংরক্ষণের অভাব তো আছেই, তার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিপণন ব্যবস্থা, কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য, পর্যাপ্ত উঁচু ভূমি, দক্ষ কৃষকের অভাবসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এছাড়া ফুল চাষীদের জন্যই নেই স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা।”
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কৃষি কর্মকর্তার অভাবে কৃষকরা অনেকটা অনুমানের উপর ফুল আবাদ করছেন বলে ভাষ্য আবদুর রহিমের। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরে একটি হিমাগার নির্মাণ করছেন ফুল সংরক্ষণের জন্য। যশোরের গদখালীর পাশাপাশি এলজিইডি আরো ১২টি আধুনিক বাজার ও কালেকশান সেন্টার নির্মাণ করবে। ফুল উৎসবের খবর চাওর হতেই রাজধানীর নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন নানা পেশা, নানা বয়সের দর্শনার্থী, ক্রেতা। ফুলের সঙ্গে পরিচিত হতে, ফুল উৎপাদনের কায়দাকানুন জানতে, কেউ আবার ফুল গাছ কিনতে এসেছিলেন মেলায়।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা ক্রেতা পারভিন ইয়াসমীন বলেন, “মেলায় এসে নতুন ফুল খুব একটি দেখিনি। তবে ফুল উৎপাদনের কায়দাকানুন সম্পর্কে জেনে নিলাম। শহরের বাসায় ফুল চাষ করে ব্যর্থই হচ্ছিলাম। ভুলগুলো বুঝতে পেরেছি এবার।”
এদিকে অনলাইনভিত্তিক ফুল সেবা প্রতিষ্ঠান দেশি ফুল ডটকম মেলায় নিয়ে এসেছে ‘ফ্লাওয়ার ইন এ বক্স’ প্যাকেজ। গ্রাহকরা মাসিক ১৫০০ টাকায় ‘গোল্ডি লক’ ও ৮০০ টাকায় ‘সিলভার সাইন’ প্যাকেজের মাধ্যমে নতুন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ঋতুভেদে ফুলের তারতম্যে সাজানো এই প্যাকেজটি গ্রাহক মাসে চার থেকে আট বার অবধি ব্যবহার করতে পারবেন।
বৈচিত্র্যময় দেশী ফুলের সঙ্গে মানুষের পরিচয় বাড়ানো, ফুলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ফুলের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এ ফুল উৎসব। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে ইউএসএআইডি, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও দেশিফুল ডটকম।-বিডিনিউজ