ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যার মামলায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৯, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলার সাথে মাকসুদ-সোনার দেশ

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ৬ই এপ্রিল শনিবার সকালে পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসা ভবনে গেলে কয়েকজন মুখ-ঢাকা মেয়ে নুসরাত জাহানকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়, এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বুধবার ঢাকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নুসরাতের মৃত্যু হয়। তারও কিছুদিন আগে নুসরাত জাহান ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিলেন এবং সেই ঘটনার জেরে ওই অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা তার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে, বলে অভিযোগ করেন তার ভাই।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উপজেলার এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাকসুদ আলম এই ব্যক্তি মামলার চার নম্বর আসামী, এবং তিনি সেই শ্লীলতাহানির ঘটনার পর এলাকায় প্রতিবাদ ঠেকাতে সক্রিয় ছিলেন।
এ কারণে তিনি গায়ে আগুন দেবার ঘটনার সংগঠকদের একজন হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, বলেন মি. মজুমদার।
এ মামলার এক নম্বর আসামী হচ্ছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা। তিনি এখন পুলিশের হাতে আটক। এ ঘটনায় তিনি সহ মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
জাভেদ হোসেন নামে আরেকজনকে ধরারও চেষ্টা চলছে বলে জানান পিবিআই উপ-মহাপরিদর্শক মি. মজুমদার।
নূরউদ্দিন নামের আরেকজন আসামীকে এখনো ‘অফিসিয়ালি খুঁজে পাওয়া যায় নি’ বলে উল্লেখ করেন মি. মজুমদার – যদিও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে এই নূরউদ্দিনকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আটক করার খবর বের হয়েছে।
মি. মজুমদার বলেন, এরকম খবর পত্রিকায় এসেছে বলে তিনি জানেন কিন্তু নূরউদ্দিনকে এখনও ‘অফিসিয়ালি তাকে গ্রেফতার দেখাতে পারেন নি।’
‘তাকে ধরার জন্য অভিযান এখনো চলছে’ – বলেন পিবিআইএর উপমহাপরিদর্শক।
নুসরাতের গায়ে যারা আগুন দিয়েছিল, মুখ-ঢাকা সেই লোকেরা কারা ছিল – জানতে চাইলে মি. মজুমদার বলেন, এটা তারা এখনো বের করতে পারেন নি।
“এটা আমরা এখন পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারি নি, আমরা সমস্ত আসামীদের ধরলে তাদের কাছ থেকে বের করতে পারবো যে তাদের নিজেরা কেউ ছিলৈন কিনা বা তারা কে ছিল।”
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ