ফোরজি লাইসেন্স ও তরঙ্গ ফি ১২% হারে ভ্যাট আদায় করতে চায় এনবিআর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ফোরজি লাইসেন্স ও তরঙ্গ ফির ওপর ১২ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায় করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মাধ্যমে ৭৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারির সুপারিশ করে বোর্ডে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সংস্থাটির বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)।
এলটিইউ বলছে, নিয়ম অনুযায়ী তরঙ্গ সেবা বিক্রির বিপরীতে সেলফোন অপারেটরদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করার দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)। কিন্তু বিটিআরসির ভ্যাট নিবন্ধন বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) না থাকায় তরঙ্গ নিলামের ভ্যাট আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে হয়। অন্যদিকে তরঙ্গ বরাদ্দ রেয়াত সুবিধাপ্রাপ্ত হলে এক্ষেত্রে নিট ভ্যাট শূন্য হবে। ফলে নিলামের আগেই বিশেষ আদেশ জারি না হলে সরকার ৭৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। তাই দ্রুত সময়ে আদেশ জারি করতে হবে। এ বিষয়ে এলটিইউর কমিশনার মতিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, টুজি লাইসেন্সের আগে বিশেষ নির্দেশনা জারি না করায় সেলফোন অপারেটররা তৃতীয় কিস্তির টাকা না দিয়ে আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছিল। এতে রাজস্ববঞ্চিত হয় সরকার। থ্রিজি লাইসেন্সে বিশেষ আদেশে ভ্যাট আদায় করা হলেও ফোরজির বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়নি এনবিআর। ফোরজি লাইসেন্সের ওপর ১২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে ৭৫০ কোটি টাকা আহরণের একটি প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে বিশেষ আদেশ জারি না হলে তা আদায়ে জটিলতা তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, সেলফোন অপারেটরদের ফোরজি তরঙ্গ বরাদ্দ দিতে এরই মধ্যে আবেদনপত্র জমা ও বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বিটিআরসি। ২৫ জানুয়ারি যোগ্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ফোরজি নিলামের মহড়া, ১৩ ফেব্রুয়ারি তরঙ্গ নিলাম ও ১৪ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী আবেদনকারীদের নোটিস দেয়ার কথা রয়েছে বিটিআরসির। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই ফোরজির বিষয়ে এনবিআরের বিশেষ নির্দেশনা চায় এলটিইউ। প্রস্তাবনায় এলটিইউ তাদের জানিয়েছে, মূল্য সংযোজন কর, ১৯৯১-এর ৩ ধারার ৫ উপধারা ও একই আইনের বিধিমালা ১৮(ঙ) অনুযায়ী লাইসেন্স ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। তবে মোবাইল কোম্পানিগুলোর জন্য রেয়াত সুবিধা থাকায় তাদের নিট ভ্যাট শূন্য হয়ে যায়। অন্যদিকে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য বা ট্যারিফের ভিত্তিতে করা হলে রেয়াত বাতিল হয়ে আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট দিতে হবে কোম্পানিগুলোকে। রেয়াত সুবিধার কারণে টুজি লাইসেন্সে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব হারায় সরকার। থ্রিজি লাইসেন্সের আগে বিশেষ নির্দেশনায় ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে মামলা বিদ্যমান থাকায় এখন নতুন নির্দেশনা ছাড়া ফোরজির ভ্যাট আদায় সম্ভব নয়। ফলে তরঙ্গ বরাদ্দের আগেই নতুন নির্দেশনা জারি করা দরকার। সেক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধির বিচারে এবার তা ১২ শতাংশ হওয়া দরকার বলে মনে করছে এলটিইউ। জানা গেছে, মূল্য সংযোজন কর আইন-১৯৯১ অনুযায়ী, পণ্য ও সেবা গ্রহণকারীর কাছ থেকে সরাসরি ভ্যাট আদায় করতে পারে না এনবিআর। সেলফোন অপারেটরদের কাছে তরঙ্গ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট আদায় করে তা এনবিআরকে পরিশোধ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়কারীর বিআইএন থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিটিআরসির তা না থাকায় ভ্যাট আদায় করতে পারছে না সংস্থাটি। মামলার কারণে বিটিআরসির পক্ষে খুব সহজে বিআইএন নেয়া সম্ভব না হওয়ায় ফোরজির ভ্যাট আদায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এ জটিলতা নিরসনের অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি এনবিআরে চিঠি পাঠিয়েছে বিটিআরসি। চিঠিতে সব ধরনের সেবার বিপরীতে ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতি জানতে চাওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে এনবিআরকে প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ