ফ্লাইট মিস করায় বদলে গেছে অক্ষয়ের জীবন!

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


কখনও কখনও ফ্লাইট মিস করলে বদলে যেতে পারে জীবনটাই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় অক্ষয় কুমারের কথা। পর্দায় নয়, বাস্তবেরই ঘটনা। ৫০ বছর বয়সি এই সুপারস্টারের দাবি, তার জীবনে ওই ঘটনা না হলে আজ হয়তো অবসর নেওয়া কোনও মডেল হয়ে থাকতেন!
ভারতের মিড-ডে পত্রিকার সিট উইথ হিটলিস্ট সেগমেন্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলিউডের খিলাড়ি বর্ণনা করেছেন কিভাবে একটি ফ্লাইট মিস হওয়ায় বদলে দিয়েছে তার জীবন। তখন পায়ের নিচে শক্ত মাটি পেতে সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন তিনি। বেঙ্গালুরুতে মডেল হিসেবে একটি কাজের জন্য যাওয়ার কথা ছিল তার। ভুলক্রমে তিনি ভেবেছিলেন সন্ধ্যা ৬টায় তার ফ্লাইট। অথচ তা ছিল ভোর ৬টায়!
অক্ষয় বললেন, ‘‘ভোর ৫টা ১০ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে ফোন করা হলো আমাকে। মডেলিং এজেন্সি সংশ্লিষ্ট একজন জানতে চাইলেন, আপনি কোথায়? তাকে বললাম, আমি তো আমার ঘরেই। তিনি তখন বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘ভালো করে শুনে রাখো, তোমার মতো অপেশাদার মানুষরা জীবনে কখনও সফল হতে পারবে না’।’’
কথাগুলো শুনতে শুনতে চোখে জল চলে এলো অক্ষয়ের। তিনি বলছিলেন, ‘আমি এখনই আসছি। একদৌড়ে চলে আসবো। মোটরসাইকেলে চড়ে আসছি। কিন্তু এজেন্সির লোকজন তা মানলেন না। এটাই স্বাভাবিক। তারা ঠিকই পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটে চলে গেলেন আমাকে ফেলে।’
সেদিন মনোবল পুরোপুরি হারিয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন অক্ষয়। তবে মুম্বাইয়ে নটরাজ স্টুডিওতে যাওয়ার পর চাঙ্গা হয়ে ওঠেন তিনি। স্টুডিও থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে ছিল তিনটি ছবি।
সাক্ষাৎকারে অক্ষয় বলেছেন, ‘মনে পড়ে নটরাজ স্টুডিওতে গিয়ে প্রমোদ চক্রবর্তীর রূপসজ্জাকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নায়ক হতে চাও?’
এরপর কপাল খুলে যায় অক্ষয়ের। প্রয়াত পরিচালক প্রমোদ চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনা হয় তার। সেদিনই তিন-তিনটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। তার কথায়, ‘ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৬টা। আমাকে ভেতরের একটা রুমে ডেকে নিয়ে চেক দিলেন প্রমোদজি। চমকে গেলাম। তখনই তিনটি ছবিতে আমাকে চুক্তিবদ্ধ করে ফেলেন তিনি। প্রথমটির জন্য ৫০ হাজার রুপি, পরেরটি ১ লাখ ও তৃতীয় চেকটিতে ছিল দেড় লাখ রুপির অঙ্ক।’
১৯৯২ সালে প্রমোদ চক্রবর্তীর ‘দিদার’ ছবিতে অভিনয় করেন অক্ষয়। ওই বছরেই ‘খিলাড়ি’র মাধ্যমে বলিউডে সাড়া ফেলেন তিনি। এরপর তাকে দেখা গেছে একই নির্মাতার ‘মিস্টার বন্ড’ ছবিতে।
তবে ১৯৯১ সালে রাজ সিপ্পি পরিচালিত ‘সুগন্ধা’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় অক্ষয়ের।
মিড-ডে’র সাক্ষাৎকারে এসব ঘটনা জানিয়ে অক্ষয় বলেন, ‘যা হয় ভালোর জন্যই হয়। সবসময়ই আমার মনে হয়, বেঙ্গালুরুতে সেদিন গেলে জীবনে বিপর্যয় হতে পারতো। হয়তো এখন আমাকে আপনারা অবসর নেওয়া কোনও মডেল হিসেবে দেখতেন!’
অক্ষয় এখন ‘প্যাডম্যান’ নিয়ে ব্যস্ত। এটি মুক্তি পাবে আগামী বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে। এছাড়া তার হাতে আছে রজনীকান্তর সঙ্গে ‘টু পয়েন্ট জিরো’ এবং হকি খেলোয়াড়ের জীবন অবলম্বনে নির্মাণাধীন ছবি ‘গোল্ড’।-বাংলা ট্রিবিউন