বই পড়ার জন্য রাজশাহীতে ১ হাজার ৪১৮ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৯, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির পুরষ্কার গ্রহণ করেন এক শিক্ষার্থী-সোনার দেশ

রাজশাহীর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত বইপড়া কার্যক্রমের আওতায় ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বই পড়ার জন্য রাজশাহীতে ১ হাজার ৪১৮ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেয়া হয়। গতকাল শুক্রবার নগরীর ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
রাজশাহী মহানগরীর ৩৫টি স্কুলের পুরস্কার বিজয়ী ১৪১৮ জন শিক্ষার্থীকে স্বাগত পুরস্কার, শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরাপাঠক পুরস্কার এই চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে স্বাগত পুরস্কার পেয়েছে ৫৩৬ জন, শুভেচ্ছা পুরস্কার পেয়েছে ৫৬৩ জন, অভিনন্দন পুরস্কার পেয়েছে ২৫৬ জন এবং সেরাপাঠক পুরস্কার পেয়েছে ৬৩ জন। সেরাপাঠক পুরস্কার বিজয়ী ৬৩ জনের মধ্যে লটারীর মাধ্যমে ৬ জনকে প্রদান করা হয় ২০০০ টাকা সমমূল্যের বইয়ের একটি করে বিশেষ পুরস্কার। এছাড়াও লটারীর মাধ্যমে ১ জন অভিভাবককে প্রদান করা হয় ২০০০ টাকা সমমূল্যের বইয়ের একটি করে বিশেষ পুরস্কার।
এই উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তারা হলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, বিশিষ্ট লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, বিশিষ্ট টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় উপস্থাপক ডা. আব্দুর নূর তুষার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নাটোর শাখার সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক অলক মৈত্র, দুইবার এভারেস্ট বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী এম. এ মুহিত, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ তাইফুর রহমান, গ্রামীণফোনের রাজশাহী সার্কেলের হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যানিং বিজনেস, রাজশাহী এর মোহাম্মদ তানভীর হোসাইন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র রাজশাহী শাখার পূর্বতন সংগঠক ও নাগরিক অধিকার কর্মি আহমেদ সফিউদ্দিন ।
শুরুতে ফুলের মালা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য পর্বে অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক লাইব্রেরিকে জ্ঞানের সমুদ্র বলে অভিহিত করেন। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর বিখ্যাত সব মনীষীর চিন্তারাশি সমুদ্রের সুবিশাল জলের ন্যায় লাইব্রেরিতে আবদ্ধ থাকে। তাই লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে এসব মহান মানুষদের সাথে পরিচিত হতে হবে। তাদের বই থেকে পাওয়া জ্ঞান আমাদের নিজেদের মধ্যে ধারণ করে আগামীতে দেশ ও সমাজের কাজে লাগাতে হবে। দেখবে, একদিন সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ আলোকিত হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র রাজশাহী শাখার পূর্বতন সংগঠক ও নাগরিক অধিকার কর্মি আহমেদ সফিউদ্দিন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উৎসব আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের আগামীতে আরো বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক [প্রোগ্রাম] মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।
উৎসবের এ বিশাল আয়োজনে সহযোগিতা করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ