বগুড়ায় মা-মেয়ে নির্যাতনঃ মেয়ে সেফ হোমে, মা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৭, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি


বগুড়ায় ধর্ষণের পর নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া সেই কিশোরীকে রাজশাহীর সেফ হোমে এবং নির্যাতনের শিকার তার মাকে রাজশাহীর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের আদালতে হাজির করলে বগুড়ার শিশু আদালতের বিচারক মোহা. ইমদাদুল হক এ নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ওসি অপরাশেন আবদুুল কালাম আজাদ জানান, বিচারক মোহা. ইমদাদুল হক মা ও মেয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে বগুড়া জেল সুপারের মাধ্যমে মেয়েকে রাজশাহীর সেফ হোমে ও মাকে রাজশাহীর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে মা ও মেয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে শুনানিতে অংশ নেন শিশু আদালতের স্পেশাল পিপি মোহা. আমানুল্লাহ ও নারী ও শিশু আদালতে স্পেশাল পিপি আশিকুর রহমান সুজন।
বগুড়ার স্পেশাল পিপি আমানুল্লাহ বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর কিশোরী, তার মা ও বাবাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের সেইফ হোমে পাঠানোর আবেদন করা হলে মা ও মেয়ে আপত্তি জানান। আপত্তির পর বিচারক ওই কিশোরীর বাবার কাছে জানাতে চান তিনি মেয়ের নিরাপত্তা দিতে পারবেন কি না। জবাবে তিনি পারবেন না বলে জানালে বগুড়ার জেল সুপারের মাধ্যমে মেয়েকে সেইফ হোমে ও মাকে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। তবে তারা বাইরে নিরাপদ অনুভব করলে যে কোনো সময় চলে আসতে পারবেন বলেও আদেশে বলা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান ওই কিশোরী। সেখান থেকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।
গত ১৭ জুলাই ভাল কলেজে ভর্তির কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) তুফান সরকার। এর ১০ দিন পর ওই কিশোরী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে বেধড়ক পেটানো হয়।
ধর্ষণ ও নির্যাতনের ওই ঘটনায় মেয়েটির মা ২৮ জুলাই রাতে তুফান সরকার, তার স্ত্রী আশা এবং স্ত্রীর বড় বোন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুমকিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। ঘটনার পর ওই রাতেই তুফান ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত ৯ আসামিসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বগুড়ার শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও তার বড় ভাই স্থানীয় যুবলীগ নেতা মতিন সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ