বছরে খাদ্যশস্য অপচয় ৭৭ লাখ টন

আপডেট: মে ১৭, ২০১৮, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২০১৫-১৬ অর্থবছরে চাল, গম, ভুট্টা, পেয়াঁজ, আলুসহ সব ধরনের ফল ও সবজির উৎপাদন ছিল প্রায় ৬ কোটি টন। এসব খাদ্যশস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতেই নষ্ট হয়েছে প্রায় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ক্রিশ্চিয়ান-এইডের সহায়তায় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘খাদ্যের অপচয় রোধে রাষ্ট্রের ভুমিকা ও খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে এসব তথ্য ওঠে আসে।
খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিজেএএফ) সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাইদ শাহীন।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, গবেষণাটি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উৎপাদিত শস্যের পোস্ট হারভেস্ট লস ও আর্থিক মূল্য বের করা হয়েছে। খাদ্যশস্য, সবজি ও ফলমূলের ১০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে উৎপাদক থেকে শুরু করে মধ্যস্বত্বভোগী, সংগ্রহকারী, মজুতদার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীর হাতবদলে। গড়ে উৎপাদিত শস্যের প্রায় ১৩ শতাংশই নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতি হওয়া এসব শস্যের আর্থিক মূল্য মোট বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রায় ৩০ শতাংশ। নষ্ট হওয়া খাদ্যশস্যের মধ্যে চাল ও গমের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। আলুর পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টন যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। ফল নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৮ লাখ টন যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সবজি নষ্ট হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টন যার বাজারমূল্য ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া পেয়াঁজ ও ভুট্টা নষ্ট হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ টন। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার শস্য ফসলোত্তরে নষ্ট হচ্ছে। দেশের এ অপচয় রোধ করা গেলে খাদ্য শস্য আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।
দেশের নাজুক পুষ্টি পরিস্থিতিতে খাদ্য অপচয় রোধের কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, খাদ্য অপচয় রোধ করতে পারলে আমরা অধিকসংখ্যক লোকের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব পাশাপাশি পুষ্টির যোগান দিতেও সক্ষম হব।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি