বদলগাছীতে ইউপি চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে হাট-বাজার প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুই অর্থবছরের হাট-বাজার ইজারালব্ধ নীট আয়ের টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যেমে উত্তোলন করে আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবরে ইউপির সদস্যগণ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সাংসদসহ বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি প্রেরণ করেছেন।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিস ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহীনুর ইসলাম স্বপন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক, ৭নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হারুনুর রশিদ ও ৬নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর আলম জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৪২৩ বঙ্গাব্দের হাট-বাজার ইজারালব্ধ আয়ের ১০% ১টি প্রকল্পে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪শ টাকা গত বছরের ১৬ নভেম্বর ০৮৩৬৬২১ নম্বর চেকে প্রদান করা হয় ও ১৫% অর্থের অনুকুলে ৬টি প্রকল্পে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৯শ ৪৯ টাকা গত বছরের ১৬ নভেম্বর ০৮৩৬৩৭৪ নম্বর চেকে প্রদান করা হয়। উল্লেখিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ভান্ডারপুর হাটের মাছপট্টির পশ্চিমপাশে মাটি ভরাট ১লাখ ৬১হাজার ৪শ টাকা, ভান্ডারপুর হাটের কাঁচা বাজারের দক্ষিণ পাশে মাটি ভরাট প্রকল্প ১লাখ ৫০হাজার টাকা, ভান্ডাপুর হাটের পুজা মন্ডপের দক্ষিণ পাশে হাট সেড থেকে মাংসহাটে পর্যন্ত খোলা ড্রেন ও স্লাব এবং মাটি ভরাট প্রকল্পে ১লাখ ১৮হাজার ৬৬ টাকা, কোলা হাটের মাছা বাজারে খোলা ড্রেন পুনঃসংস্কার ২ লাখ টাকা, কোলা বাজারে প্রসাবখানা নির্মাণে ২ লাখ টাকা, কোলা হাটের গো-হাটে মাটি ভরাট ২ লাখ টাকা, কোলা হাটে ২টি নলকুপ স্থাপন ও মেঝে পাকাকরণ প্রকল্পে ৬০ হাজার ৮শ ৮৩ টাকা ।
অপরদিকে ১৪২৪ বঙ্গাব্দে ইজারালব্দ আয়ের ১০% অনুকুলে ২টি প্রকল্পে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫শ টাকা এবছরের ১৪জুন ১৪৫৭৪৪২ নম্বর চেকে প্রদান করা হয় ও ১৫% অর্থের অনুকুলে ৬টি প্রকল্পে মোট ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৮শ ৩০ টাকা একই তারিখে ১৪৬৬৮৩৫ নম্বর চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। প্রকল্পগুলো হলো, কোলা হাটের ছাগল বাজারে মাটি ভরাট ২ লাখ টাকা, কোলা হাটের দক্ষিণ পাশে নলকূপ স্থাপন ৩২ হাজার ৫শ টাকা, কোলা হাটে পশু জবাইখানা তৈরি বাবদ ৫ লাখ টাকা, কোলা হাটের গো-হাটে গ্রীল নির্মাণ ১ লাখ টাকা, কোলা বাজারে সাব-মারজিবল মটর ও পানি সাপ্লাই প্রকল্পে ৪ লাখ টাকা, কোলা হাটের গো-হাটে মাটি ভরাট বাবদ ১লাখ ২৬হাজার ৮০৭ টাকা, ভান্ডারপুর হাটে নতুন সেড নির্মাণ বাবদ ৪ লাখ টাকা, ভান্ডারপুর হাটের দক্ষিণ পাশে নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে ৪৪ হাজার ২৩ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হলেও উক্ত দুই অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর কোন কাজ না করেই সমুদয় অর্থ উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চু।
সরেজমিনে ভান্ডারপুর ও কোলা হাটে প্রকল্পগুলো দেখতে গিয়ে দেখা যায়, ১৪২৩ বঙ্গাব্দের হাট-বাজার ইজারালব্ধের ১০% এর প্রকল্প ভান্ডারপুর হাটের মাছপট্টির পশ্চিমপাশে মাটি ভরাট ও ১৫% এর ২নম্বর প্রকল্প ভান্ডাপুর হাটের পুজা মন্ডপের দক্ষিণ পাশে হাট সেড থেকে মাংসহাট পর্যন্ত খোলা ড্রেন ও স্লাব এবং মাটি ভরাট প্রকল্পের মধ্যে শুধু মাংস হাটে একটি ২৫ ফিট ড্্েরন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আর কোন প্রকল্পের কাজই করা হয় নি। দুটি প্রকল্পের মাটি ভরাটের স্থানটিও একই জায়গা উল্লেখ করা রয়েছে। অপরদিকে ১৪২৩ বঙ্গাব্দে হাট-বাজার ইজারালব্ধের ১৫% এর প্রকল্পে কোলা হাটে গো-হাটে মাটি ভরাট ও ১৪২৪ বঙ্গাব্দে ১০% এর প্রকল্পে কোলা হাটের ছাগল বাজারে মাটি ভরাট, কোলা হাটের গো-হাটে মাটি ভরাট প্রকল্প। পরপর এই ৩টি প্রকল্প একই স্থানে হলেও সেখানে কোন মাটি ভরাটের কাজ করা হয় নি। অপর প্রকল্পগুলোরও একই অবস্থার প্রতিয়মান হয়।
এ বিষয়ে ভান্ডারপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মাসুদ সাগর ও সম্পাদক সাজাক হোসেন জানান, এখানে গত দুই অর্থ বছরে যতগুলো প্রকল্প আছে তার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার টাকা খরচ করে মাংস হাট থেকে ২৫ ফিট একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া আর কোন প্রকল্পের কাজ করা হয় নি। কোলা হাটের প্রকল্পগুলো দেখতে গেলে সেখানেও কোন কাজ দেখতে না পেয়ে কোলা বাজারের একাধীক দোকানদার, বণিক সমিতির সভাপতি কদ্দুস ও হাট ইজারাদারের সাথে কথা বললে তারা বলেন, গত দুই বছরে এই হাটে কোন উন্নয়ন মূলক কাজ হয় নি। কোলা বিজলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কোলা হাটের গো-হাটে ও ছাগল হাটে আমাদের স্কুল মাঠেই বসে। কিন্তু সেখানে গত দুই বছরের মধ্যে এই বর্ষা মৌসুমের আগে মাত্র ১০ ট্রাক মাটি দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বচ্চু । তাছাড়া আর কোন কাজই করা হয় নি।
এ বিষয়ে জানতে কোলা ইউপি চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুর সাথে মোবাইল ফোনে করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান বলেন, হাট-বজারের অর্থ প্রকৌশলীর প্রাক্কলন গ্রহণ করে পিপিআর-২০০৮ এর বিধান অনুসরণর্পূবক ব্যয় করতে বলা হলেও চেয়াম্যানদেরকে অর্থ ছাড় কবে করেছে সেটিও আমি জানি না এবং আমাকে কেও কিছু জানায় নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অভিযোগটি আমি এখনো দেখিনি আগামীকাল অফিসে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে অভিযোগে আরোও জানা যায়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দে হাট-বাজার ইজারালব্ধের ৫%, ৪৬% ও সাবরেজিস্টার অফিসের ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ১% বরাদ্ধসহ মোট ২২ লাখ ৩৭ হাজার ২৭২ টাকারও কোন কাজ না করারও অভিযোগ উঠেছে।