বদলগাছীতে কোলা ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচন || শঙ্কার মধ্যে চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৯, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


নওগাঁর বদলগাছীতে কোলা ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে শঙ্কার মধ্যে চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা। কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস্কেন্দার মির্জা বাচ্চু দুর্নীতির দায়ে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার উপনির্বাচনের ঘোষণা দেন। আগামী ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও কোলা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে এস্কেন্দার মির্জা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কোলা ইউপির ছয়জন সদস্য ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কোলা ইউপি চেয়ারম্যান এস্কেন্দার মির্জা বাচ্চুর বিরুদ্ধে কোলাহাট ও ভান্ডারপুর হাটের ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ৫১লাখ ৩০ হাজার ৯৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম আলী বেগকে ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থ আত্মসাতের সত্যতা পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান পুনঃতদন্ত চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের অভিযোগটি তদন্ত করা হয়। ওই বছরের ২১ মে নওগাঁ স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মুজিবুল হক অভিযোগটি তদন্ত করেন। ৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য (প্রমাণসহ) পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র পাঠায়। ২৭ নভেম্বর ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কোলা ইউপি উপনির্বাচনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান এস্কেন্দার মির্জা বাচ্চু নির্বাচন ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট করেছেন। মহামান্য হাইকোর্ট রিটের শুনানির দিন ধার্য করেছেন ২৫ জুলাই। আবার ২৫ তারিখ সকাল ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানসহ তার সহযোগীরা চেষ্টা করছেন রিটের মাধ্যমে রায় নিয়ে পুনরায় স্বপদে ফিরে যাওয়ার জন্য। এসব কারণে কোলা ইউপি উপনির্বাচন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে নানা সময় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এসব গুজবের কারণে সাধারণ ভোটারসহ প্রার্থীরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নানা শঙ্কার মধ্যেও প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. লিখন। বাকী ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন আল মাহমুদুল হাসান বুলেট (ঢোল), এইচএম আসাদুজ্জামান (রজনীগন্ধা), মোছা. সেলিনা মির্জা(আনারস), মো. আবুল হাসনাত চৌধুরী (পাতা), মো. গোলাম রব্বানী (অটোরিক্সা), মো. জাফর ইকবাল তাজুল(টেবিল ফ্যান), মো. ফয়সাল ওয়ালিদ(চশমা), মো. শফিকুল ইসলাম(টেলিফোন), মো. হায়দার আলী (ঘোড়া)।
কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, নির্বাচন বন্ধ হোক এটা আমরা চাই না। কারণ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এবং আমাদের প্রত্যাশা নির্ধারিত তারিখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন বন্ধ হচ্ছে গুজবের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শফি উদ্দিন শেখ জানান, নির্বাচন বন্ধ হবে এমন কোনো নির্দেশনা পাই নি। তবে হাইকোর্টে একটা রিট হয়েছে সেই কপি আমরা পেয়েছি। আগামী ২৫ জুলাই রিটের শুনানি আছে।