বদলগাছীতে প্রেমিকের সন্ধানে এসে গাইবান্ধার স্কুল ছাত্রী নিরাপদ হেফাজতে

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


নওগাঁর বদলগাছীতে প্রেমিকের সন্ধানে এসে গাইবান্ধার স্কুল ছাত্রী তিনদিন বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান নেওয়ার পর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে কোর্টে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, বদলগাছীর বালুভরা ইউপির মির্জাপুর গ্রামের বিকাশ চন্দ্র প্রামাণিকের অনার্স পড়ুয়া ছেলে বিলাশ প্রামাণিকের সঙ্গে গাইবান্ধা সদর থানার ধানকুটি গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রীর ফেসবুকে সখ্যতা হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সূত্র ধরে ওই স্কুল ছাত্রী প্রেমিক বিলাশ প্রামাণিককে গাইবান্ধায় ডেকে নেয় ১৫ নভেম্বর। সেখানে যাওয়ার পর প্রেমিক বিলাশ প্রামাণিক বখাটেদের হাতে পড়ে। এসময় বিলাশ গাইবান্ধা থানা পুলিশের স্মরণাপন্ন হয়। থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বদলগাছীর বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আয়েন উদ্দিনকে খবর দিলে চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গাইবান্ধা থানা থেকে বিলাশকে উদ্ধার করে আনা হয়। অপরদিকে প্রেমিকা স্কুল ছাত্রী প্রেমিকের টানে সান্তাহার এসে স্টেশনে ঘোরাঘুরি করার সময় পুলিশ তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদ হেফাজতে পাঠিয়ে দেয়। স্কুল ছাত্রীর দাবি তার পেমিকের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। যেহেতু মেয়ে নাবালিকা সেক্ষেত্রে বিধিগতভাবে বিয়ে দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার। ইতোমধ্যে বিষয়টি জানার পর বদলগাছী থানা পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় ওই স্কুল ছাত্রী জানায়, তাদের মধ্যে ফেসবুকে যোগযোগ হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের তিন বছর ধরে সম্পর্ক চলছিল। স্কুলছাত্রী আরো জানায় বিলাশ গাইবান্ধায় গেলে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে ধরে ফেলে। এসময় তার কানের দুল এবং পায়ের নুপুর ৫ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করে তা সাংবাদিকদের দিয়ে বিলাশকে রক্ষা করে।
এবিষয়ে বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ওই ছাত্রীর বয়স কম হওয়ায় তাকে বিয়ে দিতে পারছি না। আমি তাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এরই মধ্যে খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি তদন্ত) আবদুল মালেক জানান, কে বা কারা ৯৯৯ এ ফোন করে জানালে আমি বিষয়টি অবগত হই এবং সোমবার সন্ধ্যায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। যেহেতু মেয়ে নাবালিকা বিয়ে দেওয়া যাবে না। আমি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা মেয়েকে নিতে আসবে না। এ কারণে মঙ্গলবার সকালে তাকে নিরাপদ হেফাজতে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রেমিক পলাতক রযেছে।