বদলগাছীতে শীতকালীন সবজি চাষ করে বদলে গেছে কৃষকের ভাগ্য

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী


বদলগাছীতে শীতকালীন সবজির খেত-সোনার দেশ

নওগাঁয় বদলগাছী উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষে বদলে গেছে বহু কৃষকের ভাগ্য। এ বছর আশানুরূপ দামের চেয়েও বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরাও খুশি। তাই বেশি করে সবজি চাষে ঝুঁকছে এ উপজেলার কৃষকরা। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেই এখন কৃষক ঘরে তুলছেন নগদ অর্থ। আর এই শীত মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে এসব সবজি। বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগ্রহের সঙ্গে ট্রাকে করে লাখ লাখ টাকার ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কুমড়া, সিম, লাউ, বরবটি,পালং শাক ও লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
এ উপজেলা অনেক কৃষক এই শীতকালীন সবজি চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। সাংসার পরিচালনা ও বাড়তি উপার্জনে কৃষকরা সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।
উপজেলার কোলা ইউনিয়নের রহমত আলীসহ ওই এলাকার আরমান, সুমুন, দুলাল ও মিলন হোসেন জানান, পরিবারের দারিদ্রতার কারণে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি।
অপরদিরক মিলন হোসেন জানান অভাবের সংসারে কি করবেন তিনি ভেবে পাচ্ছিলেন না। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তিনি শুরু করেন সবজি চাষ। আর এই সবজি চাষে বদলে গেছে তার ভাগ্য। পরিবারের আর্থিক কষ্ট অনেকটা কমে গেছে। গত বছর শীত মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে তিনি সবজি চাষ করে প্রায় সোয়া ২ লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর তিনি সবজি চাষ করেছেন সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে।
আধাইপুর ইউনিয়নের লৎফর মিয়া জানান, গত বছর ১০ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। ফলে এবছরও তিনি টমেটো চাষ করছেন। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন। তার চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন। গত বারের চেয়ে এবার দামও অনেক বেশি। আশা করছেন আগের বছরের চেয়ে এবার আরো বেশি লাভবান হবেন।
পাহাড়পুর ইউনিয়নের মোকারম জানান, ৬/৭ বছর আগে রবিশস্য চাষাবাদ করতেন তিনি। তাতে খরচই উঠত না। কষ্টে করে দিন কাটত তার। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। এবার তিনি লাউ চাষ করে ব্যপক লাভবান হয়েছেন। লাউ চাষে দুটি লাভ খুঁজে পান তিনি। প্রথমে লাউ বিক্রি, এরপর লাউয়ের ডগা বিক্রি। চলতি বছরে ১ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন তিনি। মাচা তৈরিসহ তার খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তিনি এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা লাউ বিক্রি করেছেন । আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এই উপজেলার সিম চাষি লইম উদ্দীন বলেন, আমি এ বছর ১ বিঘা জমিতে আগাম সিম চাষ করেছি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার টাকা সিম বিক্রি করেছি এবং সে টাকা দিয়ে দুই দিন আগে ১ বিঘা জমি বন্ধক নিয়েছি।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে হাজার হাজার বিঘা জমিতে নানা প্রজাতির সবজি চাষের সমারহ। বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। সরজমিনে স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি নতুন আলু ১৬০/১৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, কাতিশাল সিম ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫/৪০ টাকা, ফুলকপি ৩৫/৪৫ টাকা, ওলকপি ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পটোল ২৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মূলা ২০/২৫ টাকা, শসা ৪০ টাকা, খিরা ৫৫/৬৫ টাকা, টমেটো ৮০/১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০/৬০ টাকায়, পালং শাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান আলী জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিভন্ন স্থানে প্রায় ৪ হাজার একর জমিতে শীতকালিন সবজি চাষবাদ হয়েছে। বাজারে দামও ভাল রয়েছে। আগামীতে সবজি চাষ আরো বৃদ্ধি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।