বদলগাছীর সব হাট-বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


বদলগাছীর হাট-বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের রশিদ-সোনার দেশ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার হাট বাজারগুলোতে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাট ইজারদাররা তাদের ইচ্ছামত অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বদলগাছী উপজেলার গোবরচাঁপা, কোলা, ভান্ডারপুর ও বদলগাছী সদর হাটের দিন সরজমিনে গিয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সত্যতা প্রমান পাওয়া যায়। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে বছরের পর বছর অবহিত করা হলেও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাংলা ১৪২৪ সাল থেকে সংশ্লি¬ষ্ট উপজেলার সরকারি হাটগুলোতে গরু, মহিষ ও ঘোড়া প্রতি ৩শ টাকা, ছাগল ও ভেড়া প্রতি ১৫০ টাকা, প্রতিমন ধানের বিপরীতে ৪ টাকা, প্রতিমন গমের বিপরীতে ১০ টাকা, অন্যান্য রবি শষ্যে তরকারি পটল, বেগুন, মুলা ইত্যাদি কৃষিজাত শাকসবজি বহনকারী মহিষের গাড়ী প্রতি ১৪ টাকা, গরুর গাড়ী প্রতি ১২ টাকা, টমটম গাড়ী প্রতি ১০ টাকা, তরকারির বড় দোকান প্রতি ১০ টাকা, তরকারির ছোট দোকান প্রতি ৬ টাকা ও তরকারির ডালি প্রতি ৪ টাকা, আলু, পেঁয়াজ, আদা মণে ৬ টাকা ও মহিষের গাড়ী ৪ মণ পর্যন্ত ১২ টাকা, শুকনা ও কাঁচা মরিচ মণ প্রতি ১২ টাকা করে বিক্রতা বা তরিতরকারির দোকানদারদের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারবেন।
কিন্তু বদলগাছী সদর, কোলা, ভান্ডারপুর ও গোবরচাপা হাটের ইজারদাররাসহ উপজেলার অন্যান্য ইজারদাররা স্থানীয়ভাবে প্রভাব দেখিয়ে জোর পূর্বক গরু, মহিষ ও ঘোড়া প্রতি ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৩৮০-৪০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়া প্রতি ১৫০ টাকার পরিবর্তে শতকরা ১০ টাকা। এতে একটি ছাগল বা ভেড়া যদি দশ হাজার টাকা বিক্রি হয় তাহলে শতকরা ১০ টাকা হিসাবে এক হাজার টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রতিমণ ধানের ৪ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা, প্রতিমন গমের বিপরীতে ৮ টাকার স্থলে ২০-৩০ টাকা, অন্যান্য রবি শষ্য তরকারি পটল, বেগুন, মূলা ইত্যাদি কৃষিজাত শাকসবজির গাড়ীর জন্য নির্ধারিত টোল না নিয়ে মণ প্রতি ১৫-২০ টাকা, আলু, পেঁয়াজ,আদা প্রতি মণ ৬ টাকার স্থলে ২০-৩০ টাকা, শুকনা ও কাঁচা মরিচ প্রতি মণ ১২ টাকার স্থলে ২০-৩০ টাকা করে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। হাট ইজারদাররা প্রভাবশালী হওয়ার ফলে প্রতিবাদ করেও ক্রেতা বিক্রেতারা এর কোন সুফল পাচ্ছে না।
সরেজমিনে বদলগাছীর কোলা, গোবরচাঁপা হাটে গিয়ে দেখাযায় গরু, মহিষ প্রতি অতিরিক্ত ৮০-১০০ টাকা বেশী টোল আদায় করছে । অতিরিক্ত টোল নেওয়ার কথা খাজনা আদায়কারিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ইজারা মালিক আমাদের গরু, মহিষ প্রতি ৩৮০-৪০০শ টাকা করে নিতে বলেছেন। তাই ৩৮০-৪০০শ টাকার কমে আমরা কোন ছাড়পত্র দিতে পারব না।
উপজেলার আক্কেলপুর গ্রামের আহসান হাবীব, খামার আক্কেলপুরের মিরাজ, পাঁচ ঘরিয়ায়া গ্রামের জামসের, বকুল, কাশেম ও মহাদেবপুর উপজেলার ফারুক হোসেনসহ একাধীক গরু ক্রেতা জানান, অতিরিক্ত টোল না দিলে ছাড়পত্র বা রশিদ দিচ্ছে না। তারা আরো জানায়, ইজারদারদের লোকজন ছাড়পত্র ছাড়া গরু হাট থেকে বের করতেও দিবে না। তাই বাধ্য হয়ে ৮০-১০০ টাকা বেশী দিয়েই ছাড়পত্র নিতে হচ্ছে।
উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে সরকারি টোল আদয়ের তালিকা টাঙানোর কথা থাকলেও কোন হাট বাজারে তা পাওয়া যায় নি।
সরকারি বিধি না মেনে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার কোলা হাটের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম ও তার প্রতিনিধি আসলামের সঙ্গে কথা বললে তারা অতিরিক্ত টোল আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে স্কুল, মসজিদ, স্থানীয় লোকজনদের টাকা দিতে হয় তাই কিছু অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে।
অপরদিকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে গোবরচাঁপা হাট ইজারদার খোকনের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশের কোন হাটেই টোল আদায় হচ্ছে না ।
গোবরচাঁপা হাটের অতিরিক্ত টোল আদায় বিষয়ে মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, সব জিনিসেরই হাটের ইজারদার অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। তারপরও ক্রেতা-বিক্রেতা দুই জনের কাছ থেকেই টোল আদায় করছে এটা নিয়মের পরিপন্থি।
অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি অতিরিক্ত টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ