বদলগাছী কলেজ কলেজ এপিওভুক্ত না হওয়ায় অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ || ফাঁকা ব্যাংক চেক দিয়ে মুক্তি

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


নওগাঁর বদলগাছী মহিলা ডিগ্রী কলেজে ডিগ্রী শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ৪৭ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে ক্ষুদ্ধ শিক্ষকেরা অধ্যক্ষকে প্রায় ২ ঘন্টা তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। অবশেষে ক্ষুদ্ধ শিক্ষক ও অধ্যক্ষর দর কষাকষির মাধ্যমে অধ্যক্ষর নামীয় সোনালী ব্যাংক বদলগাছী শাখার একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে অধ্যক্ষকে বেলা ১ টার সময় মুক্তি দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত কলেজ চলাকালীন সময় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বদলগাছী মহিলা কলেজে ২০০৫ সালে ডিগ্রী শাখা খোলা হয়। তখন ডিগ্রী শাখায় সরকারি নিয়োগ বিধি মোতাবেক ও কলেজ উন্নয়ন ফান্ডে মোটা অঙ্কের টাকা ডোনেশন নিয়ে ১১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই কলেজের ডিগ্রী শাখা খোলার দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকে। সম্প্রতি এমপিওভুক্তিতে ও ডিগ্রী শাখা এমপিও না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী আগামী ৬ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়টি শিক্ষকদের মাঝে জানাজানি হলে তাদের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির জন্য অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে বিভিন্ন সময়ে প্রদানকৃত মোট ৪৭ লাখ টাকা ফেরতের দাবি করে শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে সকল শিক্ষক শনিবার বেলা ১১ টায় কলেজ চলাকালীন অধ্যক্ষর কক্ষে বৈঠকে বসে। এসময় অধ্যক্ষর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় অন্যান্য শিক্ষকরা। বৈঠক চলাকালীন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাইর থেকে এক শিক্ষক দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। এর পর অধ্যক্ষর কক্ষে অবস্থিত শিক্ষক ফরহাদ হোসেন ও অন্যান্য শিক্ষকদের চাপের মুখে অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন সোনালী ব্যাংক বদলগাছী শাখার একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করে দিলে ক্ষুদ্ধ শিক্ষকদের পক্ষে ফরহাদ হোসেন ওই চেক গ্রহণ করে অধ্যক্ষকে মুক্তি দিয়ে তারা দ্রুত কলেজ ত্যাগ করেন।
এবিষয়ে অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, তার কলেজের ডিগ্রী শাখার শিক্ষকেরা তাকে কৌশলে অবরুদ্ধ করে ৪৭ লাখ টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে আমি টাকা দিতে না পারায় শিক্ষক ফরাদ হোসেনের নেতৃত্বে সকল শিক্ষক আমাকে ব্যাপক চাপের মুখে ফেলে। আমি মান সম্মানের ভয়ে আমার নিজ নামীয় সোনালী ব্যাংক বদলগাছী শাখার একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর দেই। তারা আমার স্বাক্ষর করা ফাঁকা ব্যাংক চেকটি নিয়ে চলে যায়।
তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে আগামীকাল রোববারে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদারকে নিয়ে মিটিং করা হবে। সেখানে ওই শিক্ষকেরা আমার ফাঁকা চেকটি ফেরত দিতে চেয়েছেন।
এবিষয়ে শিক্ষক ফরাদ হোসেন অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে অবরুদ্ধ বা তার কাছে থেকে ফাঁকা ব্যাংক চেক নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
পরে খবর পেয়ে থানার পুলিশ কলেজের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বিকেল ৩ টায় কলেজে গিয়ে সাক্ষাত করেন।
এবিষয়ে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ