বদলা নিতেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় জালালকে

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৯, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নিহত জালাল উদ্দিন-সোনার দেশ

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত জালালের বাড়িতে শোকের মাতম চলছেই। স্ত্রীর কান্না থামছে তো ছেলের কান্না থামছেনা। আর বৃদ্ধা মা কেঁদেই চলেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ মেম্বারের ছেলে জালাল উদ্দিনকে (৬০) পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাবু মন্ডল গতকাল শুক্রবার গুরুদাসপুর থানায় বাদী হয়ে একই গ্রামের ৯জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলো মৃত আক্কাছ মন্ডলের ছেলে শরিফ (৩৭) ও সাইদুল (৪২), মৃত মমিন মন্ডলের ছেলে আশরাফুল (৩৬), মজিদ মন্ডলের ছেলে রেজাউল (৩২) ও রবি (৩৪), মজনুর ছেলে আজাদুল (২৭), মৃত সোবাহানের ছেলে দুলাল হোসেন (৩৩), মোশারফের ছেলে মাহাবুর (২৮) ও মৃত আশকান প্রামাণিকের ছেলে হাছেন আলী (৩০)।
নিহতের ছেলে বাবু মন্ডল জানান, ২০১১ সালের ২৪ মে প্রতিবেশি মমিন মোল্লাকে কে বা কারা জবাই করে হত্যা করে। তখন আমার বাপ চাচাদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মমিন হত্যা মামলার আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার নাটোর কোর্টে সেই মামলার হাজিরা ছিল। ওই মামলাটি আপসের জন্য সকাল ৬টার দিকে নিহত মমিন মোল্লার ভাই শরিফ, সাইদুলসহ আশরাফুল ও মাহাবুর মোবাইল ফোনে আমার বাবাকে পাশর্^বর্তী সাবগাড়ী গ্রামের অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার স্বপনের বাড়িতে আসার কথা বলে।
বাবু আরো জানান, তার পিতা জালাল উদ্দিন সরল মনে তাদের কথামত স্বপন উকিলের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাবগাড়ী রোডে মোশারফের বাড়ির কাছে পৌঁছালে আসামি শরিফ-সাইদুলেরা প্রকাশ্যে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুই হাত কেটে নেয় এবং দুই পা ভেঙে দেয় এবং বাম হাত কেটে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মুমূর্ষ অবস্থায় জালালকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। তবে মমিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জালালকে হত্যার বদলে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে জালাল হত্যার দুইদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও নিহত জালালের কেটে নেয়া হাত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ