বন্দিদের সকালের নাস্তায় মুখরোচক খাবার সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ

আপডেট: জুন ১৮, ২০১৯, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

খোল-নলচে বদলে ফেলার কথা আমরা বলি কিন্তু সেটা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে উঠেনা বা বদলানোর জন্য আধুনিক চিন্তার প্রয়োজন হয় সেটারও অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে হঠাৎ একটি ব্যবস্থাÑ যা দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে তা বদলানোর ক্ষেত্রে জটিলতারও সৃষ্টি হয়। তবে সর্বক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী মহলের মানসিক অবস্থার পরিবর্তনটাই গুরুত্বপূর্ণ।
কারাবন্দিদের সকালের নাস্তার মেন্যু ব্রিটিশরা ভোবে নির্ধরণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশে সেটিই এতাদিন বহাল ছিল। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সেটির পরিবর্তন আনলো। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত রুটি-গুড়ের বদলে এখন থেকে দেয়া হবে মুখরোচক খাবার। প্রাতঃরাশে বন্দিরা সপ্তাহে দু’দিন ভুনা খিচুড়ি, চারদিন সবজি-রুটি এবং বাকি একদিন হালুয়া-রুটি পাবেন। ১৬ জুন সকাল থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিবর্তন আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
এই পরিবর্তনই শুধু নয়Ñ কারগার পরিচালনের অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার করা হয়েছে। এর একটা মহাৎ উদ্দেশ্য হলোÑ দ-প্রাপ্ত অপরাধীরা যাতে অপরাধী মানসিকতা নিয়ে কারামুক্তি না ঘটে। বরং সে যাতে সংশোধন হয়ে সমাজে ফিরে যেতে পারে, স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারেন। তারই অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা নয়Ñ মানুষ হিসেবে গন্য করার মানসিকতা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী কারাবন্দিদের মানসিক প্রশান্তিতে রাখতে প্রিয়জনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার জন্য প্রিজন লিংক ‘স্বজন’ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাবন্দিরা তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ সার্ভিস চালু করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে বন্দিরা কারাগারে থেকে মানসিক প্রশান্তি পেলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমবে। কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। কারাগারে ব›দিদের চাহিদা অনুযায়ী ৩৮টি ইভেন্টে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফলে কারাবন্দিরা মুক্তির পর পুনরায় অপরাধে না জড়িয়ে সংশোধনের সুযোগ পায়।
দেশের মানুষের ধারণা ও অভিজ্ঞতা এই যে, কারাবন্দিদের প্রতি পশুর মত আচরণ করা হয় এবং তাদেরকে যে খাবার দেয়া হয় তা অত্যন্ত নি¤œমানের, খাওয়ার অযোগ্য। অমানুষিক নির্যাতন, কখনো কখনো বন্দিদের মেরে ফেলার ঘটনাও অতীতে আছে। অথচ কারবন্দিদের প্রতি জঘন্য নিপীড়নমূলক আচরণ করার যে যে পদ্ধতি ব্রিটিশ প্রচলন করে গিয়েছিল কা ৭৫-৮০ বছর ধরে এতোদিন ধরে বহাল ছিল। সেটি বর্তমান সরকার পরিবর্তন এসে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির ধারার প্রবর্তন করলো। ঘৃণা-বিদ্বেষ দিয়ে, নিপীড়ন-হত্যা চালিয়ে মানুষের আচরণের পরিবর্তন আনা যায় না। এর জন্য মানবিক পদক্ষেপগুলোই সফল হতে দেখা যায়। একজন অপরাধী সমাজের একক কোনো বিষয় নয়Ñ ব্যক্তির সাথে তার পরিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে, সেটাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করা যায় না। ওই অপরাধীর প্রতি মানবিক আচরণ করলে, তাকে পরিবর্তনের ধারায় আনতে পারলে পরিবারের আর সদস্য বিচ্ছিন্নবোধের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পায়। সমাজ সভ্যতার অগ্রগতি সেই পথ ধরেই এসেছে। সরকার সেই উদ্যোগটিই গ্রহণ করেছে যা অপরাধীদের ইতিবাচকভাবে পরিবর্তনের পক্ষে নিয়ে যাবে। সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ