বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় পানিতে মাছের মেলা সিংড়ায় || মাছ শিকারের মহোৎসব

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

এমরান আলী রানা, সিংড়া


নাটোরের সিংড়ায় বড়সি দিয়ে মৎস্য শিকারের মহোৎসব চলছে। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের শেরকাল-জোড়মল্লিকা বিলে বিভিন্ন জেলা থেকে মৎস্য শিকারি আসছেন এখানে।
সরেজমিনে বগুড়া ও নাটোর জেলার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য শিকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেউ শখের বশে, কেউবা সংসারে মাছ-ভাতের ব্যবস্থা করার জন্য ছুটে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে মাছ ধরার নেশা শত শত আগন্তুকের। এ বিলে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক শিকারি যান। ভোর ৩টা হতে চলে যান অনেকে। রাতে গিয়ে জায়গা ধরে নেন, তাছাড়া রাত থেকে বেশি মাছ শিকার করা যায়, এজন্য তারা ছুটে যাচ্ছেন। এদের অনেকে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার সাজিয়ে নিয়ে গেছেন সারাদিন মাছ শিকারের জন্য।
মাছ শিকারী আক্কাস বলেন, বড় বড় মাছ ধরতে গিয়ে বড়সি ভেঙে যায়। তবু আনন্দ লাগে, কখন যে বড় মাছ ঠোকর দিবে। মামুন ও আরিফ জানান, আমরা শখের বসে মাছ মারতে এসে পাই তাতেই আনন্দ। বনপাড়া হতে এসেছেন মোজাম্মেল, তিনি প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি করে মাছ শিকার করেন। তিনি একাই চারটি বড়সি দেন। সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত মাছ শিকার করেছেন। সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রামসহ দূরদূরান্ত হতে মাছ শিকার করতে যাচ্ছেন শত শত মানুষ। নাটোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে অনেকে যাচ্ছেন মাছ শিকারে।
জানা গেছে, এবারের ভয়াবহ বন্যায় সিংড়ার পুকুরগুলো রাতারাতি ভেসে যায়। এর কারণে প্রচুর মাছের দেখা মিলেছে। প্রতিদিন শিকারীরা রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপেয়া মাছ শিকার করছেন। বগুড়া থেকে এসেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি পেশাদার মাছ শিকারী। তিনি প্রথমদিনে পাঁচ কেজি মাছ শিকার করেছেন। বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর থেকে মৎস্য শিকারির সংখ্যা বেড়েছে। গত ১ মাস থেকে চলছে মৎস্য শিকার, তবে এখন প্রচুর মাছ শিকার হওয়ায় প্রতিদিন শিকারির সংখ্যা বাড়ছে। ৩০ টাকার বড়শি থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার ফাইবার বড়সি দিয়ে ও মাছ শিকার করা হচ্ছে।
সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী জানান, এবারের বন্যায় মৎস্যচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। প্রায় এক হাজার ৫শ পুকুর ভেসে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
সিংড়ার সাংসদ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, এবারের বন্যায় চলনবিলের মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সরকার তাদের পাশে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাসাধ্য সহায়তা দেয়া হবে।