বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা মাড়াই

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা ও মাড়াই-সোনার দেশ

বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা মাড়াই। ফলনও হয়েছে ভাল। রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন চাষ হয়েছে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে। আগাম জাতের ব্রি -৪৯, বিনা-৭, বিনা-১৭, ও জিংক সম্বৃদ্ধ ব্রি-৬২ কাটা মাড়াই চলছে।
উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ধামিলা গ্রামের কৃষক আশরাফ বলেন, চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছি। এরমধ্যে ৫ বিঘা জমির ধান কাটা মাড়াই সম্পূর্ণ হয়েছে। ব্রি-৪৯ জাতের ধান বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ১৯ মন। বাকী ১৫ বিঘা জমির ধান ১ সপ্তাহের মধ্যে কাটা মাড়াই শুরু করবো। প্রতি বিঘা ধান চাষে তার খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। কৃষক আশরাফ আরো বলেন, কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গভীর নলকূপ থেকে জমিতে সেচ দেওয়ায় বিঘায় অতিরিক্ত ১ থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। ভাল ফলন পেয়ে খুশি হলেও দাম নিয়ে কিছুটা চিন্তায় রয়েছে কৃষক। ভাল দাম পেলে এবার আমন চাষের কৃষকেরা লাভবান হবে বলে কৃষক আশরাফ জানায়। উপজেলার মালকামলা গ্রামের কৃষক আবদুল্লাহ ৫০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। অধিকাংশই জমিতে ব্রি-৪৯, ব্রি-৭১ ও সর্ণা জাতের ধান চাষ করেছে। সপ্তাহ আগে ১৫ বিঘা জমির ধান কাটা মাড়াই সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ব্রি-৪৯ জাতের ধান উৎপাদন হয়েছে ১৮ মন। আবদুল্লাহর ১ বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। ব্রি-৭১ ও সর্ণা জাতের ধানের ভাল ফলন হবে বলে তিনি জানান। ঈশ্বরীপুর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, এ অঞ্চলে এবার অধিকাংশই জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ হয়েছে। বিঘায় ব্রি-৪৯ ১৭ থেকে ১৯ মন বিনা-৭ জাতের ধান বিঘায় ১৫ থেকে ১৭ মন, বিনা-১৭ বিঘায় ১৪ থেকে ১৬ মন ও জিংক সম্বৃদ্ধ ব্রি-৬২ বিঘায় ১২-১৩ মন উৎপাদন হচ্ছে। ব্রি-৬২ জাতের ধানের উৎপাদন কম হলেও এর পুষ্টিগুন বেশি হওয়ায় হাট বাজারে দাম বেশি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে রোপা আমন চাষ হয় মূলত বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে। এবার চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেরিতে চারা রোপন করার কারণে অন্য জাতের ধান কাটা মাড়াই বিলম্বিত হচ্ছে। গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকার্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই কম হওয়ার কারণে আমন ধানের উৎপাদন ভাল হচ্ছে। কৃষকেরা পোক মাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার বেশি করেছে। জমির ধান ৯৫ ভাগের বেশি পেকে গেলে কাটা মাড়াই করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।