বরেন্দ্রে বিনা হালচাষে রসুন উৎপাদন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


গোদাগাড়ীতে বিনাচাষে কসুনের খেত-সোনার দেশ

বরেন্দ্রের লাল মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিনা হালচাষে উৎপাদন হচ্ছে মসলা জাতীয় রসুন। ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি রসুন চাষিরা।
গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ২০১৬ সালে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ১০ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক বিনা হালচাষে রসুন উৎপাদনে সফল হয়। পরের বছর ২০১৭ সালে তিন বিঘা জমির আউস ধান কেটে বিনা হালচাষে রসুনের চারা রোপণ করে। ওই বছর ৩ বিঘা জমিতে রসুন চাষে খরচ হয় ৫৪ হাজার টাকা। আর বিক্রি করেন এক লাখ ১৬ হাজার টাকার রসুন। ৬২ হাজার টাকা লাভ পেয়ে চলতি মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রসুনচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, আউস ধান চাষে জমিতে রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রয়োগকৃত সার প্রয়োজন মিটিয়ে জমিতে অতিরিক্ত থেকে যায়। জমিতে সেচের পানি দিয়ে হালচাষ না করে রসুনের চারা রোপণ করা হয়। পরবর্তীতে অল্প পরিমাণে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। রসুন উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত পাঁচটি সেচের প্রয়োজন হয়। চাষি রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, বিনা হাল ও চাষে রসুন উৎপাদনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন বিদিরপুর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে। মাঠ পর্যায়ের এই কৃষি কর্মকর্তা বিনা হালচাষে রসুন উৎপাদনে চাষি রফিকুল ইসলামকে কারিগরি সহযোগিতা ও উৎপাদন হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে পরিচর্যাতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে ফসল চাষে আগ্রহী এ অঞ্চলের কৃষকরা। ধান, গম চাষের পাশাপাশি মসলা জাতীয় অর্থকরি বিভিন্ন ফসল চাষে ঝুঁকছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের আরো পাঁচজন কৃষক একই পদ্ধতিতে রসুন চাষ করেছে। এসব কৃষক সপ্তা আগে জমি থেকে রসুন উৎপাদন করা শুরু করেছে। গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, মসলা জাতীয় ফসল সম্প্রসারণে কৃষি অধিদফতর এ অঞ্চলের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অধিকাংশই কৃষক ধান কেটে জমি ফাঁকা না রেখে ফসল চাষ করছে।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের মাটির গুণগত মান এতটাই ভালো যেকোনো ফসল চাষ হবে। কৃষকেরা যাতে করে লাভবান হয় সে ধরনের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।