বরেন্দ্র অঞ্চলের ১২৫ উপজেলায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

আপডেট: জুলাই ২৮, ২০১৮, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

মহাদেবপুর প্রতিনিধি


প্রবল বর্ষণের পর বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬ জেলা ও মহাদেবপুরসহ ১২৫টি উপজেলায় আমন চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহী, চাপায়নবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুরসহ ১৬ জেলা ও মহাদেবপুরসহ ১২৫টি উপজেলায় কৃষকরা রোপা আমনের জমি তৈরি, চারা উত্তোলন ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত। কৃষকদের পাশাপাশি আমনের চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে নারী কৃষি শ্রমিকদের।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর, পোরশা ও পতœীতলা উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমনের চারা রোপণের কাজ। ইতোমধ্যেই ৩০-৪০ ভাগ জমির রোপা আমন রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট জমির চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন। এবার রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমনের জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন কৃষকরা। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপণের কাজ করতে হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে সেচ বাবদ কৃষককে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। এতে রোপা আমন চাষের খরচ বেড়েছে কৃষকের। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে বৃষ্টির পানিতে স্বাচ্ছন্দে আমনের চারা রোপণের কাজ করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত নওগাঁ জেলার এবার ২ লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মহাদেবপুর উপজেলায় ২৩ হাজার ৯৬৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে রোপা আমন চাষে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। অধিক ফলনের আশায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা রোপণ করছেন। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণা-৫, গুটি স্বর্ণা, বিআর ১১, ব্রিধান ৩৩, ব্রিধান ৫১, ৫২ ও বিনা- ৭।
মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ ও নাটশাল গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, এবার তারা অধিকাংশ জমিতেই স্বর্ণা-৫ জাতের ধান রোপণ করেছেন। বাকি জমিতে চিনিআতব ধান লাগাবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেন। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন স্বর্ণা-৫ জাতের ধানে রোগবালাই কম হয় এবং উচ্চ ফলনশীল বলে এই ধান বেশি লাগিয়েছেন। পাশাপাশি চিনিগুড়া আতব ধানের দাম বেশি পাওযা যায় বলে এই ধান চাষে অধিক আগ্রহ।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম মফিদুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলে এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ