বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষ হচ্ছে কেমিক্যালমুক্ত টমেটো

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০১৮, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা গোদাগাড়ী


বরেন্দ্রের লাল মাটিতে চাষ হচ্ছে কেমিক্যালমুক্ত টমেটো। ভাল ফলন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক। রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, গত দুই বছর ধরে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর ও মাটিকাটা ইউনিয়নের গোপালপুরে ৩ জন কৃষক বিশেষভাবে তৈরিকৃত মাচায় কেমিক্যালমুক্ত টমেটো চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। চলতি মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে মাচায় কেমিক্যালমুক্ত টমেটো চাষ হয়েছে। মাচায় টমেটো চাষের ওপরে কয়েকজন কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এরপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকেরা মাঠ পর্যায়ের কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে টমেটো চাষ করে। উপজেলার ঈশ্বরীপুরে কৃষক জিয়ারুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে বিজলী ও সুমাইয়া নামের হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেন। তিনি জানান, এ টমেটো চাষে খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। কৃষক জিয়ারুল ইসলাম বলেন, মাচা তৈরি ও গাছের উপর জাল দিয়ে ঢেকে রাখার জন্য খরচ বেশি হয়েছে। তবে পরের বছর থেকে টমেটো চাষের খরচের পরিমাণ কমে যাবে। গত ২ সপ্তায় ২০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন জিয়ারুল ইসলাম। গাছেই টমেটো পেকে যাওয়া এবং কেমিক্যালমুক্ত হওয়ার কারণে ভোক্তাদের কাছে মাচায় চাষকৃত টমেটোর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। এজন্য খুচরা ও পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা জমিতে এসেই প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে টমেটো ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। টমেটো চাষি জিয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, প্রথম দুই সপ্তা টমেটোর উৎপাদন কম হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে টমেটোর উৎপাদন বাড়তে থাকবে। আগামী সপ্তা থেকে ১ দিন পর পর জমিতে গাছ থেকে পাকা টমেটো সংগ্রহ করে বিক্রি করবে। এ প্রসঙ্গে দেওপাড়া ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, ২০১৬ সালে ঈশ্বরীপুর এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম ২ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাচায় কেমিক্যালমুক্ত টমেটো চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। মনিরের সাফল্য দেখে জিয়ারুল ইসলাম মাচায় টমেটো চাষ আগ্রহী হলে তাকে টমেটো চাষে কারিগরিভাবে সহযোগিতা করা হয়। জিয়ারুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের সাফল্যে আগামী বছর এ অঞ্চলে কেমিক্যালমুক্ত টমেটো চাষ বৃদ্ধি পাবে। অতনু সরকার আরো বলেন, মাচায় টমেটো চাষে নিবিড় পরিচর্যা নিতে হয়। এ জন্য কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন হয় বেশি। তবে চাষে জৈবসারের ব্যবহারে তেমন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। জাল দিয়ে পুরো গাছ ঢেকে রাখার কারণে পাখিতে টমেটো নষ্ট করতে পারে না। একটানা ৬ থেকে ৭ মাস ফলন হয়। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে গোদাগাড়ী উপজেলায় শীতকালীন হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন টমেটো চাষ হয়েছে। কিন্তু এসব টমেটো গাছ থেকে কাঁচা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল দিয়ে পাঁকানো হয়। কেমিক্যাল যুক্ত টমেটোর চাহিদা কম থাকায় প্রতি বছর শীতকালীন হাইব্রিড টমেটো চাষ কমে যাচ্ছে। তাই কৃষকেরা কৃষকদেরকে মাচায় টমেটো চাষে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

Don`t copy text!