বরেন্দ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ফুল চাষ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


গোদাগাড়ীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফুলচাষ সোনার দেশ

বরেন্দ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ বাড়ছে। ফুলের ভালো উৎপাদন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক। চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী, কাঁকনহাট, মুন্ডুমালা, তানোর, আমনুরা, নাচোল, গোমস্তাপুর, সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গ্লাডিওলাস, গাদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ও জারবেলাসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, গত কয়েক বছর ধরে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের গোপালপুর ও মোহনপুর ইউনিয়নের বাউটিয়া এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমে গোপালপুরের কৃষক কাইউম আলী দেড় বিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস ফুল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। ফুলচাষি কাইউম আলী বলেন, ২০১২ সালের দিকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ১০ কাঠা জমিতে গ্লাডিওলাস ফুল চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। এর পরের বছর থেকে ফুল চাষ বাড়াতে থাকে। চলতি মৌসুমে দেড় বিঘা জমিতে ফুল চাষে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। আর ফুল বিক্রি করেছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার। আরো ৩০ হাজার টাকা ফুল বিক্রি হবে। ১ মৌসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা লাভ হওয়ায় আগামী বছর আরো বেশি জমিতে ফুল চাষ করবে বলে কৃষক জানান।
ফুলচাষি কাইউম আলী আরো বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতা জমিতে থেকে ফুল ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এ বছর প্রতিটি গ্লাডিওলাস ফুলের স্টিক বিক্রি করেছে ১৮ টাকায়। আর বাজারে প্রতিটি গ্লাডিওলাস ফুলের স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।
মাটিকাটার বিদিরপুর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফুল চাষে সেচ ও রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কম হয়। পোকা-মাকড় ও রোগবালাই কম হওয়ায় ফুলের ফলন শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি পাওয়া যায়। ফুলচাষ সহজ পদ্ধতি হলেও পরিচর্যা করতে হয় বেশি। উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাউটিয়া গ্রামের কৃষক নাদিম হোসেন জাপানের একটি সংস্থার প্রকল্পের আওতায় চার বিঘা জমিতে জারবেলা, গাদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ শহর থেকে খুচরা ফুল বিক্রেতারা জমিতে এসে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ফুল ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। জমিতে থেকেই ফুল বিক্রি করতে পেরে একটু বেশি লাভবান হচ্ছে বলে ফুলচাষি নাদিম খুবই খুশি। কাইউম আলী ও নাদিমের ফুল চাষের সাফল্যতে এই এলাকার অন্য কৃষকেরা ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছে।
জানতে চাইলে গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফুল চাষের উপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ধান, গম, টমেটো, শাক-সবজির পাশাপাশি অর্থকারী ফসল হিসেবে ফুল চাষে ঝুঁকছে কৃষকেরা। এতে করে বরেন্দ্র অঞ্চলে ফুল চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সময়মতো সেচ ও সার দেয়া গেলে ফুলের ভালো ফলন হবে। আগামী বছর ফুলচাষ বাড়াতে আরো কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।