বরেন্দ্র অঞ্চলে ভুট্টা চাষ বেড়েছে

আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


বরেন্দ্র অঞ্চলে ভুট্টা চাষ বেড়েছে। কৃষকরা জানান, বোরো ধান গমের চেয়ে ভুট্টা চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যাচ্ছে। এতে করে কৃষকরা প্রতি বছর বোরো ধান ও গম কমিয়ে দিয়ে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, গত পাচ বছরে ভুট্টার চাষ বেড়েছে দ্বিগুন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ভৃট্টা চাষ হয়েছে ১হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে।
উপজেলার মানিক চক গ্রামের ভুট্টা চাষি এসতার আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে গম চাষে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। বিঘায় গমের উৎপাদন হয় ১৪ থেকে ১৬ মণ।আর এক বিঘায় ভুট্টা চাষে ৭ হাজার টাকা খরচ হলেও উৎপাদন হয় ৪০ থেকে ৫০ মণ। এ জন্য গম চাষ কমিয়ে দিয়ে চলতি মৌসমে ২৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি।
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, গম চাষের জন্য প্রচ- শীত ও কুয়াশার প্রয়োজন হয়। গম গাছ বৃদ্ধির জন্য ডিসেম্বর থেকে র্ফেরয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যান্ত শীতের মাত্রা বেশি থাকা দরকার কিন্ত এ সময় জলুবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে শীত ও কুয়াশার উপস্থিত নেই। ফলে গমের ফলন কম হচ্ছে। উপজেলার ঝিকরার কৃষক বকুল হোসেন ৩০ বছর ধরে বোরো চাষ করে আসলেও চলতি মৌসুমে বোরো ধানের পরিবর্তে ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। কৃষক বকুল হোসেন বলেন, বোরো ধানের উৎপাদন ভালো হলেও অব্যাহত ধানের দরপতনে লোকসান হচ্ছিল। তাই সহজে ভুট্টা চাষ করে বেশি লাভবান হওয়ার কারণে গত ২ বছর থেকে ভুট্টা চাষ শুরু করেছি।
উপজেলার পাকড়ী কৃষক গোলাম রাব্বনী জানান, গত মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে ভুতট্টা চাষ করে লাভবান হওয়ায় চলতি মৌসুমে ১০বিঘা জমিতে ভুতট্টা চাষ করেছেন। কৃষক গোলাম রাব্বনী বলেন, গম চাষে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় বেশি। কিন্ত ভুট্টা চাষে জৈব সার ব্যবহারে রাসায়নিক ও সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না।
গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে গম ও ধান চাষ ঠিক রেখে আগ্রহী ভুট্টা চাষিদের সহায়তা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ