বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ালিটির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান করছে || মতবিনিময় সভায় বক্তারা

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মতবিনিময় সভায় অতিথিবৃন্দ-সোনার দেশ

শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পাঠ্যপুস্তক মুখস্ত করানোই নয়, মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত। উচ্চ শিক্ষিত মানুষ বিদ্ধান না-ও হতে পারে। কিন্তু বিদ্ধান হওয়া উচিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বড় অংশের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা ও সংকটও রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বিক্রির কারখানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটিকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান করছে। যার স্বাক্ষর শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মজীবনে প্রবেশ করে রাখছেন। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ধারণাই পাল্টে দিয়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃত মানুষ হওয়ার সাথে সাথে দক্ষ মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে কাজ করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। মতবিনিময় সভায় রাজশাহী জেলার বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছে। সেইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশে কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থীই দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি নিয়ে পড়তে গেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যেন শুধু সার্টিফিকেট সর্বস্ব না হয় সেদিকে সবার লক্ষ্য রাখা উচিত। একইসাথে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সংস্কৃতির চর্চা প্রভৃতি নন্দনতত্ত্বের বিষয়গুলোও মানবিক বিকাশের জন্য সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
মতবিনিময় সভাটি বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটায় শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাই কমিশনার এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম. সাইদুর রহমান খান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহান। সভাপতিত্ব করেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ওসমান গনি তালুকদার ও সঞ্চালনা করেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মহিউদ্দীন।
প্রফেসর ড. এম. সাইদুর রহমান খান বলেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা ও সংকট ছিলো। কিন্তু সেই সমস্যা ও সংকট উত্তরণ করেই আমরা এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছি। আমরা কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দিই। এইজন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি নিয়ে পড়তে গেছে। প্রতিযোগিতায় টিকেই তারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেছে। আমাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসের কাজও শুরু হয়ে গেছে। আগামি দুই তিন বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে ফিরে যাব। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব বিভাগ মিলে ১৩০ জনের মতো স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রেও আমরা একটা নীতিমালা মেনে চলি। যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়। মেধাবী শিক্ষকদের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের এনে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় কথা, মাদক ও জঙ্গিবাদ রোধে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীরা যেন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেই লক্ষ্যে সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিক, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন প্রধান বক্তা প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু উচ্চশিক্ষিত হলেই চলবে না। তাদের মানবিকও হতে হবে। তাদের দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নিতে হবে। শিক্ষিত ব্যক্তির প্রধান গুণ হচ্ছে বিনয়। শিক্ষার্থীদের বিনয়ী হতে হবে, নৈতিক হতে হবে। এইসব হচ্ছে না বলেই, দেশে এত এত শিক্ষিত ব্যক্তি দেখছি কিন্তু দুর্নীতি কমছে না, ঘুষ খাওয়া কমছে না। তারপরও আমি হতাশ নই। আগের চেয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো।
তিনি বলেন, শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন সুনাগরিক গড়ে তোলা। সেই কাজ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকলেও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সেই অভিযোগের ঊর্ধ্বে। তারা তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। আগামিতে তারা আরো এগিয়ে যাবে।
এরপর কলেজের অধ্যক্ষরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ